তাপস চন্দ্র সরকার, চট্টগ্রাম উত্তর : লাখো শহীদের জীবনের বিনিময়ে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে অর্জিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৬ ডিসেম্বরকে ঘিরে কুমিলা জেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি।
দিনভর অনুষ্ঠানসূচী’র মধ্যে রয়েছে প্রত্যুষে কুমিলা টাউন হল প্রাঙ্গণে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস-২০১৩ অনুষ্ঠানের সূচনা, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্ব-শাসিত ও বে-সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সাড়ে ৮টায় ভাষা সৈনিক স্বর্গীয় ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, কারারক্ষী, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রোভার স্কাউট, বাংলাদেশ স্কাউটস, গার্লস-গাইড, সরকারি শিশু সদন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহণে সমাবেশ ও কুচকাওয়াজে জেলা প্রশাসক কুমিলা কর্তৃক অভিবাদন গ্রহণ এবং শরীরচর্চা প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণ। অতঃপর সকল সিনেমা হলে ছাত্র-ছাত্রী ও শিশু কিশোরদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন। সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের বাস ভবনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, বাদ-যোহর/সুবিধাজনক সময়ে জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোন্জাাত ও প্রার্থনা, দুপুর দেড়টায় হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পরিবার ও ভব ঘুরে প্রতিষ্ঠান সমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বিকেল ৩টায় টাউন হল থেকে শিল্পকলা একাডেমী পর্যন্ত ছাত্র/ছাত্রীদের অংশ গ্রহণে বিজয় র্যালী, সাড়ে ৩টায় নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহিলাদের অংশ গ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোচনা সভা, বিকেল ৪টায় ভাষা সৈনিক স্বর্গীয় ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে প্রীত ফুটবল প্রতিযোগিতা, বিকেল সাড়ে ৫টায় টাউন হল মাঠে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রমাণ্য চিত্র প্রদর্শন, সন্ধ্যা ৬টায় টাউন হল মিলনায়তনে “সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বজনীন ব্যবহার” শীর্ষক আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সুবিধাজন সময়ে স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদসটির গুরুত্ব বিবেচনা করে সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ ও ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ সমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন পতাকা দ্বারা সজ্জিত করণ, রোববার সকাল ১১টায় কুমিলা শিল্পকলা একাডেমীতে শিশুদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্ববোধক গান ও নৃত্য প্রতিযোগিতা এবং রবি-সোম দু’দিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্ব-শাসিত, বেসরকারি ভবন/ স্থাপনাসমূহে আলোক সজ্জাকরণ। এছাড়াও ডিসেম্বর/২০১৩ টাউন হল প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
এদিকে, কুমিলা স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন উপ-কমিটির আহবায়ক উপ-সচিব সাঈদ মাহবুব খান এ প্রতিনিধিকে জানান- মহান বিজয় দিবস ২০১৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে ১৬ ডিসেম্বর সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় কুমিলা জেলা প্রশাসকের বাসভবনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, “বিজয়ের হাসি ফুটুক সবার মুখে…” এই শ্লোগানটি সামনে রেখে কুমিলা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব মোঃ ওমর ফারুক বলেন, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩ মহান বিজয় দিবস আমাদের চেতনার স্বপ্নিল, সুখি, সমৃদ্ধ ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা, শক্তি ও সাহস যোগবে এ প্রত্যাশায়। এই স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।




