শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে শফিউদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ২ ফেব্রুয়ারি বুধবার ভোরে উপজেলার বাদলাকুড়া গ্রামে বোরো জমিতে বাঁশ-রশি দিয়ে বানানো ফাঁসির মঞ্চ থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাদলাকুড়া গ্রামের প্রান্তিক চাষী আব্দুল মজিদ আশপাশের সামান্য জমিতে সেচ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু ছোট ও অগভীর নলকূপ হওয়ায় আরও কিছু জমি সেচের আওতায় আনতে ছোট ভাই শফিউদ্দিনের সাথে শেয়ারে মাসখানেক আগে আরও একটি অগভীর সেচপাম্প স্থাপন করেন।
সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী মানিকচাঁদপাড়া গ্রামের আহাম্মদ আলী (৩৮) একই মাঠে এবং ওই অগভীর নলকূপ দুটির পাশে আরও একটি সেচপাম্প বসাতে বোরিংয়ের উদ্যোগ নেয়। একইসঙ্গে আব্দুল মজিদ ও শফিউদ্দিনের দুটি নলকূপ সরিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস বসে এবং সবশেষ ক্ষতিপূরণ হিসেবে শফিউদ্দিনের ব্যয়িত ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা দিয়ে তার বোরিং সরিয়ে ফেলতে সিদ্ধান্ত দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর রহমান।

কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া ওই ২০ হাজার টাকা ফেরত এবং বোরিং সরিয়ে নিতে শফিউদ্দিনকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আর বাড়ি ফিরেনি শফিউদ্দিন। বুধবার ভোরে বাড়ির অদূরে বাদলাকুড়া মাঠে বাঁশ-রশি দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ফাঁসির মঞ্চে শফিউদ্দনের মরদেহ ঝুলে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, নিজের সেচপাম্প সরিয়ে ফেলার চাপ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের হতাশায় তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে জানিয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদল জানান, ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।




