ক’দিন যাবত বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে আসছে মৌসুমী শ্রমিক। এসব শ্রমিক এসেই কাজের সন্ধানের জড়ো হচ্ছে শেরপুরের শ্রীবরদী পৌর শহরের শহীদ মিনারের আশেপাশে। প্রত্যেকের হাতে কাচি আর আটি বহনের বাইনকে (আঞ্চলিক শব্দ)। প্রতিজনের দৈনিক মজুরি হাঁকেন ৬/৭শ টাকা। এছাড়া ক’দিন যাবত সন্ধ্যা হলেই আকাশে জমে মেঘ। এতে ঝড় আর শিলাবৃষ্টি আশংকায় দ্রুত ধান কাটতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ১শ হতে ২শ টাকা। আবার দু’বেলা খাবারতো আছেই। তবে ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকেরা শ্রমিকদের চড়া মূল্য দিয়েও সন্তুষ্ট। ধান কাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষানীরাও বসে নেই। ক’দিন যাবত চলছে এ অবস্থা। চলছে বোরো ধান কাটার মহোৎসব। দিগন্ত মাঠে সোনালী ধানের সমারোহ যেন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কয়েকটা দিন আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাম্পাার ফলন ঘরে তুলবেন বলে আশা করছেন কৃষক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার। ৭ মে বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে কৃষক, শ্রমিক ও কৃষি কর্মকর্তাসহ ধান ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে ওঠে আসে এমন তথ্য।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বোরো আবাদ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমি। এছাড়াও রাজস্ব খাতের আওতায় রয়েছে প্রদর্শনী প্লট। রয়েছে ধান, পাট, গম বীজ উৎপাদন প্রকল্পের প্রদর্শনী মাঠ। রয়েছে বোরো বীজ উৎপাদন প্রকল্প। কৃষকরা জানান, আগে তারা সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। কয়েক বছর যাবত ব্যবহার করছেন আধুনিক পদ্ধতি। তাদের মতে, আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে বোরো ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন চাষাবাদে শ্রম, সময় আর ব্যয় কম হয়। উৎপাদন হয় বেশি। এ জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। এতে দ্রুতই বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র। এবার বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ব্যাপক লাভবান হবেন কৃষকরা। কৃষি ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে কৃষকদের।
ষাইটকাকাড়া গ্রামের কৃষক ইন্তাজ আলী বলেন, আমি ১০ একর জমি বোরো করছি। খুব ভাল হইছে। প্রতি কাঠায় ফলন হইতাছে সাড়ে ৩ মণ । একি কথা শোনান পোড়াগড় গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বিআর ২৮, বিআর-২৬, বিআর ২৯ ও তেজগোল্ডসহ উফসী জাতের সকল ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে শ্রমিক পাওয়া খুব কঠিন। প্রতিজন শ্রমিক মজুরি নিচ্ছে ৬শ টাকা হতে ৭ টাকা। সানন্দবাড়ী থেকে আসা শরিফুল হক, কাওছার, শামছুল হক, মজিবর রহমানসহ অনেকে বলেন, আমরা বোরো মৌসুমে ধান কাটতে আহি। এডা পরিশ্রমের কাম। এর লাইগা দামও একটু বেশি নেই। ধান ব্যবসায়ী বিপ্লব মিয়া বলেন, সীমান্ত এলাকায় কাচা ধান ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে ৮শ হতে সাড়ে ৮শ টাকা। তবে কয়েকদিন পর দাম আরো বাড়বে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক পর্যবেক্ষণ আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাড়ছে উৎপাদনের মাত্রা। এবার বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন এই কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছে। এর সুফল পেয়ে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝোঁকে পড়ছেন। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে আরো গতিশীল হয়েছে। তবে বহিরাগত শ্রমিকের পাশাপাশি হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। এতে দ্রুতই ধান কেটে ঘরে তুলবেন কৃষকরা। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও সচেতন মানুষরা।




