পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। কয়েক দশকের বাম ও তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ৯ মে শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন সম্পন্ন হলো। শুভেন্দুর সঙ্গেই এদিন শপথ নিয়েছেন তাঁর মন্ত্রিসভার আরও পাঁচ সদস্য।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই একটিই প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গ রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছিল— কে হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি ম্যাজিক ফিগার পার করার পর গতকাল শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অমিত শাহ এদিন জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেবল শুভেন্দুর নামেই আটটি প্রস্তাব এসেছিল এবং সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এক ‘ভূমিপুত্র’ এবং বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করা নেতাই আজ বাংলার সিংহাসনে বসলেন।
মন্ত্রিসভার প্রথম পাঁচ মুখ
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পরপরই একে একে শপথ নেন মন্ত্রিসভার আরও পাঁচ সদস্য। তাঁরা হলেন:
দিলীপ ঘোষ: খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী।
অগ্নিমিত্রা পাল: আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক।
অশোক কীর্তনীয়া: বনগাঁ উত্তর থেকে জয়ী।
ক্ষুদিরাম টুডু: রানীবাঁধ কেন্দ্রের বিধায়ক।
নিশীথ প্রামাণিক: কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে জয়ী।

যদিও কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব সামলাবেন, তা নিয়ে এখনই কোনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে মন্ত্রিসভার প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য লক্ষ্য করা গেছে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শীর্ষ সারির নেতারা। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়া শুভেন্দু অধিকারীর জন্য এই শপথ গ্রহণ ছিল এক ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জয়ের আনন্দ। ময়দানজুড়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান এবং শঙ্খধ্বনির মাঝে নতুন মন্ত্রিসভাকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী।
দীর্ঘ জল্পনা আর রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর বিজেপি এখন ক্ষমতায়। অমিত শাহের ভাষায়, ‘এটি বাংলার মানুষের জয়।’ এখন দেখার বিষয়, দপ্তর বণ্টনের পর এই নতুন মন্ত্রিসভা বাংলার উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হয়।




