শেরপুরের নকলায় মাদ্রাসা ছাত্র সজিবকে (১৪) বর্বরোচিত ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। ১৮ মার্চ বুধবার বিকেলে নকলা পৌরশহরের হলপট্টি মোড়ে এলাকাবাসী ও সর্বস্তরের জনগণ এসবের আয়োজন করে। নিহত সজিব উপজেলার টালকী ইউনিয়নের বিবিরচর গ্রামের মো ফারহানের ছেলে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন টালকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফফর মহিউদ্দিন বুলবুল, সাবেক চেয়ারম্যান ইসরাফিল খলিল, ওয়ার্ড মেম্বার মনসুর আলী, সজিবের বাবা মো. ফারহান ও মাতা মোছা. সুফিয়া, বিবিরচর গ্রামের জাফর তাইয়্যান শৈবাল, রাজু আহমেদ, মো. মাহাদী, শিক্ষার্থী লতিফুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সজিব হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। নাহলে সামনের দিনে বৃহৎ কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। মানববন্ধনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেন।

এ ব্যাপারে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, সজিব হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাড়াশি অভিযান চলছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সমর্থ হব বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ রাত ১০টার দিকে আড্ডা দেওয়ার কথা বলে সজিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় একই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে রিফাতসহ আরও কয়েকজন। পরে সজিবকে শরীরের একাধিক জায়গায় ছুরিকাঘাত করে কলিজা বিচ্ছিন্নসহ পেট থেকে ভুঁড়ি বের করে ফেলা হয়। পরে রাতেই সজিবকে নকলা উপজেলার বাইপাস এলাকা থেকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ মার্চ বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মারা যায় সজিব। ওই ঘটনায় সজিবের বাবা ফারহান বাদী হয়ে ১১ মার্চ নকলা থানায় রিফাতসহ ৩ জনকে আসামি করে নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।




