ব্যবহারকারীদের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন দেখানোর পরীক্ষা শুরু করছে চ্যাটজিপিটি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক ও লগইন করা ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য এই বিজ্ঞাপন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে বলে জানিয়েছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই।

শুক্রবার ওপেনএআই জানায়, ফ্রি সংস্করণের পাশাপাশি নতুন চালু হওয়া মাসিক ৮ ডলারের ‘গো’ সাবস্ক্রিপশনেও বিজ্ঞাপন থাকবে। তবে ‘প্লাস’ (২০ ডলার), ‘প্রো’ (২০০ ডলার) এবং ব্যবসায়িক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে না।
ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান অতীতে চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন যুক্ত করার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। তবে বিপুল ব্যয়ের চাপ সামলাতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন আয়ের পথ খুঁজছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, আগামী আট বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোয় প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। অল্টম্যান এর আগে বলেছিলেন, ২০২৫ সালের শেষে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে তারা আশা করছে।
বিজ্ঞাপনগুলো ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তরের নিচে ‘স্পনসরড’ লেবেলসহ দেখানো হবে। তবে ওপেনএআই বলেছে, বিজ্ঞাপন চ্যাটজিপিটির উত্তরকে প্রভাবিত করবে না। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস রাখতে হবে— চ্যাটজিপিটির উত্তর মূলত তথ্যভিত্তিক ও সহায়ক থাকার জন্যই দেওয়া হবে।
ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা কথোপকথন বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করা হবে না। চাইলে ব্যবহারকারীরা চ্যাটের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন বন্ধও করতে পারবেন। স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও রাজনীতির মতো ‘নিয়ন্ত্রিত বিষয়’ সংক্রান্ত আলোচনায় কোনো বিজ্ঞাপন দেখানো হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কথোপকথনের প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞাপন দেখানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। কারণ অনেক সময় চ্যাটজিপিটিতে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন ব্যবহারকারীরা। এ ছাড়া ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের বিজ্ঞাপন ঠেকাতে ওপেনএআইয়ের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মেটা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটেও ব্যবহারকারীদের কথোপকথনের তথ্য কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞাপন দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে।




