আইপিএলে দল না পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো ধারাভাষ্য দিতে ডাক পাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার কেইন উইলিয়ামসন আলোচনায় ছিলেন। তবে এর মাঝেই একটি নতুন ঘটনা ঘটে। সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার এবং বর্তমানে ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত ইরফান পাঠান চাকরি হারিয়েছেন। বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাকে আইপিএলের অফিসিয়াল ধারাভাষ্য প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার (২১ মার্চ) ২০২৫ আইপিএলের ধারাভাষ্যকারদের নাম ঘোষণা করা হলে, সেখানে ভারতীয় এবং বিদেশি পঞ্চাশোর্ধ্ব সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের নাম ছিল। কিন্তু ইরফান পাঠানের নাম না থাকায় তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ইরফান পাঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন, যার কারণে তার নাম বাদ পড়েছে।
আইপিএলের অফিসিয়াল সম্প্রচারকারী স্টার স্পোর্টস নেটওয়ার্কের ধারাভাষ্য প্যানেলে ইরফান না থাকায় মাইখেল সূত্রে জানা গেছে, কিছু ক্রিকেটার অভিযোগ করেছেন যে, তিনি ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করে আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে এক ক্রিকেটারকে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন, যা ওই ক্রিকেটার ভালোভাবে নেননি এবং তাকে ফোনে ব্লক করেন। এছাড়া ইরফান পাঠানের আন্তর্জাতিক ও আইপিএল ম্যাচে কিছু ক্রিকেটারের সঙ্গে কথোপকথনে তার ‘অ্যাটিটিউড’ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, “এ ধরনের আচরণ হলে তার নাম (ধারাভাষ্য প্যানেলে) থাকতে পারত না। গত দুই বছর ধরেই তিনি কিছু নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত এজেন্ডা তৈরি করে চলছিলেন, যা ভালোভাবে নেয়নি বিসিসিআই।”

ভারতীয় ক্রিকেটে এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও ক্রিকেটারদের অভিযোগের ভিত্তিতে হার্শা ভোগলে এবং সঞ্জয় মাঞ্জরেকারদের মতো জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকারদের বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে সঞ্জয় মাঞ্জরেকারকে বাদ দেওয়া হয়, কারণ তার একটি মন্তব্যে অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজাকে ‘ছোট ক্রিকেটার’ (বিটস অ্যান্ড পিসেস ক্রিকেটার) বলা হয়েছিল। এই ঘটনায় সঞ্জয় পরে জানান, বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতি তার সম্মান রয়েছে এবং বোর্ডের বিরুদ্ধে তিনি কোনো হতাশা প্রকাশ করেননি।
এছাড়া ২০১৬ আইপিএল শুরুর আগে, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া হার্শা ভোগলেকেও ধারাভাষ্য প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে জানান, “আমি জানি না কেন আমাকে আইপিএলে রাখা হয়নি। মানুষ আমাকে পছন্দ না করলেও সেটি আমি মেনে নিয়েছি, তবে আমি আশা করি না যে কোনো ক্রিকেটারের অভিযোগের কারণে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে ২০২৫ আইপিএলের আসর শুরু হয়ে গেছে, এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শুভসূচনা করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এই আসরের ধারাভাষ্য প্যানেলে সুনীল গাভাস্কার, রবি শাস্ত্রী, ইয়ান বিশপ, মাইকেল ক্লার্ক, ম্যাথু হেইডেন, ড্যানি মরিসন, বীরেন্দর শেবাগসহ প্রায় সব বড় মুখ উপস্থিত রয়েছেন।




