শেরপুরের শ্রীবরদীতে সাইনবোর্ড টানিয়ে বাস টার্মিনালের জমি জবর দখলের অভিযোগ ওঠেছে। ৪ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে গোসাইপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা রাতের আধারে ওই জমি দখল করেন। এ ঘটনায় শ্রীবরদী পৌরসভা ও স্থানীয় বাাসিন্দারা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩ যুগ আগে শ্রীবরদী থানা সংলগ্ন শেরপুর-শ্রীবরদী সড়কের পাশে ৫০ শতাংশ জমিতে বাস টার্মিনাল গড়ে ওঠে। এতে মাটি ভরাট হয় কয়েক বার। নির্মিত হয় যাত্রী ছাউনি। সেই থেকে বাস টার্মিনাল যাত্রী ওঠা-নামা করে। এতে যানবাহন দাঁড়ানোসহ বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সম্প্রতি পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। গত বুধবার রাতে উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক রাসেলুজ্জামান ওরফে রাসেল তালুকদার ১৯ শতাংশ জমি দখল করে টানিয়ে দেন সাইনবোর্ড। এতে লেখা রয়েছে পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক মরহুম রহিমদ্দীন সরকারের ছেলে জয়নাল আবেদীন। জয়নাল আবেদীনের ছেলে বাবুল তালুকদার ও তার ছেলে রাসেলুজ্জামান ওরফে রাসেল তালুকদার দখল করা জমিতে টিন সেড ঘর তুলে ও বাঁশের বেড়া দেন। বৃহস্পতিবার পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জবর দখলের বাঁধা দেন। এ ব্যাপারে দখলকারী রাসেল তালুকদার বলেন, আমাদের নামে কাগজপত্র আছে। কিন্তু লোকবল না থাকায় আমরা এতোদিন জমিতে আসতে পারি না। বর্তমানে দলের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করেছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীবরদী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাজাহান কবির জানান, ওই জমিতে ববাস টার্মিনাল হওয়ায় কয়েকবার মাটি ভরাট করা হয়েছে। সেখানে যাত্রী ছাউনি রয়েছে। হঠাৎ করে রাতের আধারে বাসটার্মিনালের জমি জবর দখল করে।

শ্রীবরদী উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। সে দলের নাম ভাঙিয়ে সরকারি জমি জবর দখল করেছে। দলের নাম ভাঙিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আমি এ ঘটনার তীব্র প্রহিবাদ ও নিন্দা জানাই।
শ্রীবরদী পৌরসভার ভারপ্রাপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে আছেন শেরপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজীব উল আহসান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, বাস টার্মিনালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




