শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. শাহিন মিয়াকে (৩৯) গ্রেফতার করেছে র্যাব। ৩ জুন মঙ্গলবার মধ্যরাতে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাড়াউন্দ এলাকা থেকে র্যাব-১৪, সিপিসি-১ জামালপুর ও সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার শাহিন নালিতাবাড়ী উপজেলার বনকুড়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। ৫ জুন বুধবার সকালে তাকে নালিতাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করে র্যাব। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

র্যাব ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩০ জুন সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের কাচিমৌ গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে শাহিন মিয়া ও তার সহযোগী হাবি মিয়া (৪০) মিলে ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের দাদী বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মামলার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খোকন চন্দ্র সরকার গাজীপুর এলাকা হতে আসামি শাহিনকে আটক ও ভিকটিমকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর ভিকটিম মাদ্রাসাছাত্রী তার জবানবন্দিতে বলেন যে, আসামি শাহিন গাজীপুরের কোন এক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রেখে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামি শাহিন ও হাবি মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ আখতারুজ্জামান ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শাহিনকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। সাজার পর আসামি শাহিন দীর্ঘ ১০ বছর আত্মগোপনে ছিল। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-১৪ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানাধীন গাড়াউন্দ এলাকা হতে পলাতক আসামি মো. শাহিন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এ ব্যাপারে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুরের কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, র্যাবের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।




