ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেও একযুগ পর বকেয়ার নোটিশ পেয়ে বিপাকে পড়েছেন স্বনির্ভর বাংলাদেশের শতশত সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের শ্রীবরদীর রানীশিমুল ইউনিয়নের হাতিবর গ্রামে। ২ মার্চ বৃহস্পতিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

কৃষি ব্যাংকের ভায়াডাঙ্গা শাখা অফিস সূত্রে জানা যায়, দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষে শ্রীবরদীর রানীশিমুল ইউনিয়নের হাতিবর গ্রামের হতদরিদ্র ৫০ জন নারীর একটি গ্রুপে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ দেন স্বনির্ভর বাংলাদেশ। এসব ঋণের কিস্তি আদায় করেন স্বনির্ভরের মাঠকর্মী। সদস্যরা সাপ্তাহিক কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করেন ঋণের টাকা। ২০১২ সালের দিকে ওইসব সদস্যদের কাছ থেকে আদায় করেন সর্বশেষ ঋণের কিস্তি। ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর মাঠ কর্মী তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেন কিস্তি পরিশোধের বই। এরপর ওই গ্রামে আর কখনই যায়নি স্বনির্ভরের মাঠ কর্মী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১৭ সালের দিকে কৃষি ব্যাংকের কাছে এসব সদস্যদের দেয়া ঋণের বকেয়া টাকার তালিকা হস্তান্তর করে স্বনির্ভর বাংলাদেশের শাখা অফিস। প্রায় এক যুগ পর কৃষি ব্যাংক তাদের প্রত্যেকের নামে বকেয়া ঋণ পরিশোধের নোটিশ করেন। ভুক্তভোগী অনেকে বলছেন, তারা নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছেন। কিন্তু মাঠকর্মী আর স্বনির্ভরের ম্যানেজার নুর আহমেদ তাদের কিস্তির টাকা কৃষি ব্যাংকে জমা না করে আত্মসাৎ করেছেন।

হাতিবর গ্রামের বাসিন্দা ও স্বনির্ভরের সদস্যা জাহানারা বেগম, হোসনে আরা বেগম ও ছালেমা বেগমসহ অনেকে জানান, আমাদের ৫০ জনের মধ্যে কেউ ভিক্ষে করে জীবিকা নির্বাহ করে। কেউবা দিন মজুর। ওই সময় কষ্ট করে ঋণের টাকা পরিশোধ করেছেন তারা। অথচ ১২/১৩ বছর পর বকেয়া ঋণের নোটিশ দিয়েছেন। এ ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভায়াডাঙ্গা শাখার সাবেক ম্যানেজার নুর আহমেদ বলেন, শুধু আমি না। আমার মাঠকর্মীও ছিল। ব্যাংকের লোক ছিল। তাছাড়া আমি যে তাদের টাকা নিয়েছি এর কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারবে না।
কৃষি ব্যাংক ভায়াডাঙা শাখা ম্যানেজার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১২ হতে ১৩ বছর আগে স্বনির্ভর এসব সদস্যদের মাঝে ঋণ বিতরণ করেছেন। ২০১৭ সালের দিকে তাদের বকেয়া ঋণের লেজার বুক হস্তান্তর করে বন্ধ হয় স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভায়াডাঙা শাখার কার্যক্রম। এখন ওইসব বকেয়া ঋণ পরিশোধের নোটিশ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভায়াডাঙ্গা শাখায় প্রায় ৩ হাজার সদস্য ছিল। এসব সদস্যর নামে বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।




