কোন প্রকার প্রচারণা ছাড়াই নির্বাচিত হলেন জেলা পরিষদ সদস্য

একাডেমীক সার্টিফিকেটে নাম তার মোহাম্মদ মোছা মিঞা (৪৪)। তবে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ‘গরীব মোছা’ নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি ম্যানেজমেন্টে বি.বি.এ পাশ এবং ব্যবসায়ে সফল হলেও নেই তার কোন অহংকার, চাল-চলন, কথাবার্তা সবটাতেই যেন তার নমনীয় গরীবি স্বভাব। ঘাত-প্রতিঘাতময় জীবনের ধারাবাহিকতায় এবার তিনি চমক দেখিয়েছেন জেলা পরিষদ নির্বাচনে। ফলে সকলের মুখে-মুখেই এখন উচ্চারিত হচ্ছে ‘গরীব মোছা’র নাম। শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র তথ্যানুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শেরপুর শহরের নানা সমীকরণে আলোচিত মীরগঞ্জ মহল্লার এক সাধারণ পরিবারের সন্তান মোহাম্মদ মোছা মিঞা । মো: হাসান মিয়া ও মোছা: হামিদা বেগম দম্পতির সন্তান মোছার জন্ম ১৯৭৯ সালে। নিজ মহল্লার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে ১৯৯২ সালে তিনি শেরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের কারনে বিলম্বে হলেও একটি বেসরকারী বিশ^বিদ্যালয় থেকে বি.বি.এ পাশ করেন। কিন্তু এস.এস.সি পাশের পর শেরপুর সরকারী কলেজে অধ্যায়ন কালে সাধারণ পরিবারের সন্তান মোছা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থেকে এবং একসময় ভিপি মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সকলের কাছে হয়ে উঠেন ভালবাসার ‘গরীব মোছা’। তাকে ওই নামে ডাকতে অন্যরা যেমন সাচ্ছন্দ বোধ করতেন, তেমনি তিনিও বিরক্ত না হয়ে ভালোবাসার ডাকে খুশিই হতেন।
কলেজ জীবন শেষ হলেও গরীব মোছা নামটিই সর্বমহলে পরিচিতি এনে দেয়। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির পর সে¦চ্ছাসবেক লীগের সাথে জড়িত হন এবং এক পর্যায়ে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে এবং আঞ্চলিকতার জটিল সমীকরণে রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন হলেও ভুলতে বা ত্যাগ করতে পারেননি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আদর্শ। তবে ব্যবসায়ী জীবনে হয়েছেন সফল। তারই আলোকে তিনি শেরপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাসট্রিসের পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলা কুড়া ব্যবসায়ী সমিতির টানা ৩ দফায় নির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির দু’দফার সাবেক সভাপতি। ৩ মেয়ে সন্তানের জনক মোছার স্ত্রী মালেকা নাছরীন একজন নারী উদ্যোক্তা এবং তিনি জেলায় ৩ দফায় সেরা করদাতা (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন। মোছা ব্যক্তিগতভাবে ক্রীড়াপ্রেমী এবং ক্রিকেট তার প্রিয় খেলা। তার মন দখল করে আছে পপ শিল্পী আযম খানের গান।
জানা যায়, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু একই মহল্লা থেকে দলের আরেক নেতা বায়েজীদ হাসান চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তার নির্বাচনটা ঠিকমত করা হয়ে উঠেনি। ছিলেন না মাঠে। এবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে একই মহল্লা থেকে হুমায়ুন কবীর রুমান চেয়ারম্যান পদে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা নির্বাচনের মতো একই অবস্থা গড়ায় তার দিকে। ফলে না ছিলেন মাঠে, না ছিলেন প্রচারণায়। কেবল তাই নয়, মাইক প্রচারণা দূরে থাক, কোন পোস্টার- ফেস্টুন ও লিফলেট প্রচারণাও ছিলো না। ১নং ওয়ার্ডে (শেরপুর সদর) সদস্য পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শতভাগ পিছিয়ে। অথচ সেই তিনিই ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিনি পান ৭৪ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৫৫ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৪৭।
এদিকে একেবারেই মাঠে না থেকে প্রচার-প্রচারণা না চালিয়ে বিজয়ী হওয়ার মূলে কি এমন মাহাত্ব ছিল তা নিয়ে চলছে নানা মহলে গুঞ্জণ। অনেকেই বলছেন, ভোটারদের খুশি করতে তার এমন কোন কৌশল ছিল, যার কারণেই তিনি চমক সৃষ্টি করতে পেরেছেন। তবে চরশেরপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ৩ দফায় নির্বাচিত সদস্য সাইফুল ইসলাম সে কথা সরাসরি স্বীকার না করে শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে জানান, ‘গরীব মোছা’ ভাই আসলেই চমৎকার মানুষ, কাজেই তার ক্ষেত্রে চমক কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক। তার মতে, নির্বাচনের মাত্র শেষ ২দিন তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছেই অধিকাংশের মন জয় করেছেন। তাতেই তার সফলতা এসেছে।




