ads

সোমবার , ৪ জুলাই ২০২২ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে হাট মাতাচ্ছে রাজা, বাদশা ও জমিদার : এবার ৫০০ কোটি টাকার পশু বিক্রির আশা

জুবাইদুল ইসলাম - ফটো কার্ড
জুলাই ৪, ২০২২ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার আর মাত্র কদিন বাকী থাকলেও এখনও শেরপুরের কোরবানীর পশুর হাটগুলো তেমন জমে ওঠেনি। তবে অল্প পরিমাণে গরু-ছাগল হাটবাজারগুলোতে দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে শেরপুরের প্রধান গরুর হাট নওহাটা পৌর গরুর হাট মাতাচ্ছে রাজা, বাদশা ও জমিদার নামে তিনটি গরু। সুঠামেদেহী ও স্বাস্থ্যবান এবং আকর্ষণীয় নাম থাকায় গরুগুলো সবার দৃষ্টি কাড়ছে। এ বছর জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পশু কেনা-বেচা হবে বলে আশা জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগের।

Shamol Bangla Ads

সরেজমিনে গরুর হাটে গেলে কথা হয় গরু তিনটির মালিক শেরপুর শহরের কান্দাপাড়া এলাকার শিক্ষিত যুবক মো. অলিদের সাথে। তিনি জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতি বছরই তিনি কোরবানীর জন্য ষাড় গরু লালনপালন করেন। প্রতি বছর কোরবানীর সময় হাটে বিক্রি করে বেশ লাভবান্ও হন। গতবছরও তিনি শেরপুরের বস নামের একটি ষাড় গরু পালন করে সবার দৃষ্টি কেড়েছিলেন। সেবার সাত লাখ টাকা দাম হাঁকিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। এবারও তিনি রাজা, বাদশা ও জমিদার নামের তিনটি ষাড় গরু পালন করে বিক্রির জন্য তৈরী করেছেন। তিনটি গরুর মধ্যে জমিদারের দাম সাড়ে ছয় লাখ টাকা, বাদশার দাম সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ও রাজার দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা হাকাচ্ছেন।
অলিদ জানান, আমার তিনটি ষাড় গরুর মধ্যে ক্রেতারা জমিদারের দাম সাড়ে চার লাখ টাকা, বাদশার দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা ও কালো রাজার দাম দুই লাখ আশি হাজার টাকা পর্যন্ত দাম করেছে। আবার অনেকেই দাম শুনে চলে যাচ্ছে। কিন্তু সঠিক দাম না পেলে গরু বিক্রি করা সম্ভব হবে না। কারণ এবার গরুর লালনপালন করার খরচ গত বছরের চেয়ে বেশী পড়েছে। এবার ভূষি, খৈলসহ গো-খাদ্যের দাম প্রায় ৫০ ভাগ বেড়েছে। আর আমার ষাড় গরুগুলোকে আমি পুষ্টিকর খাবার খাইয়েছি।

হাটে গরু দেখতে আসা মো. জাকির হোসেন জানান, অলিদ গতবারও অনেক বড় একটি গরু বিক্রি করেছে। দামও ভালো পেয়েছে। এবার সে তিনটি গরু বড় করেছে। গরুগুলো দেখতে বেশ ভালোই। আরেক ক্রেতা হামিদুর রহমান জানান, গরু তিনটা দেখতে ভালোই। তিনটার মধ্যে ছোটটার দাম করেছিলাম। কিন্তু দামে মিলছে না।

Shamol Bangla Ads

এদিকে শেরপুরের কোরবানীর হাটগুলো এখনো জমে ওঠেনি। প্রধান প্রধান হাটগুলোতে কোরবানীর গরু আমদানী হচ্ছে কম। আবার যেগুলো বাজারে তোলা হচ্ছে, দাম চাচ্ছে বেশী এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। এ কারণে হতাশ হয়ে গরু না ক্রয় করেই বাড়ি ফিরছে ক্রেতারা। অপরদিকে বিক্রেতাদের দাবি, চড়া দামে গো-খাদ্য ক্রয় করে কোরবানীর গরু পালনে এবার খরচ হয়েছে বেশী। তাই কমদামে গরু বিক্রি করা সম্ভব হবে না। গরু বিক্রি কম হওয়ায় হতাশ বাজারের ইজারাদারগণ্ও। গরু বিক্রেতা মো. আব্দুস ছাত্তার জানান, এবার অনেক কষ্ট করে বেশী দামে গরুর খাদ্য ক্রয় করে গরু পালন করেছি। আমগরে খরচ হইছে বেশী। তাই সঠিক দাম না পাইলে আমাগো লোকসান হবো। গরু ক্রেতা মিস্টার আলী জানান, এবার আগেভাগেই গরুর হাটে আসছিলাম গরু কেনার জন্য। কিন্তু এখনো ভালো গরু উঠেনি। যাও ওঠেছে দাম অনেক বেশী চাইছে। তাই আজ গরু কিনলাম না। পরের হাটে দেখব। এরশাদ আলী নামে আরেক ক্রেতা বলেন, শেষ দিকে কম দামে গরু পাওয়া যাবে। তাই আমরা গরু দেখে গেলাম। পরে কিনব।

জেলা গরুর খামার মালিক সমিতির সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান পাপ্পু বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত কোরবানীর গরু মজুদ রয়েছে। তবে গরুর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারীদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এখন যদি ভালো বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকে তাহলে খামারীরা লোকসান গুণবেন। এতে খামারীরা তাদের আগ্রহ হারাবেন। এদিকে শেরপুরের গরুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও রোগাক্রান্ত পশু যাতে ক্রয় বিক্রয় না হতে পারে সেজন্য ছয়টি টিম গঠন করা হয়েছে জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে। একইসাথে বাজারে বাজারে অবস্থান করছনে জেলা ও উপজেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

শেরপুর জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরুর হাটে আসে। একই সাথে কোন অসুস্থ গরু যাতে বাজারে ক্রয় বিক্রয় না করে এজন্য মানুষকে সচেতন করছি। আমাদের ছয়টি টিম ঘুরে ঘুরে দেখে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কাজ করে যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে প্রচুর সংখ্যক কোরবানীর গরু বাজারে ওঠবে এবং দামও সহনশীল পর্যায়ে আসবে বলে ধারণা করছি। তিনি আরও জানান, জেলায় কোরবানীর জন্য পশুর চাহিদা ৫৫ হাজারের কিছু বেশি। আর আমাদের প্রস্ততকৃত পশু রয়েছে প্রায় ৮৩ হা্জার। আমরা হাটে সরাসরির পাশাপাশি অনলাইনেও কেনাবেচার ব্যবস্থা রেখেছি। সুতরাং ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যেই তাদের কোরবানীর পশু কিনতে পারবেন। এবার জেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পশু বেচা-কেনা হবে বলে ধারণা করছি আমরা। এতে খামারীরা বেশ লাভবান হবেন।

Need Ads

সর্বশেষ - খেলাধুলা

Shamol Bangla Ads