ads

বৃহস্পতিবার , ৩ মার্চ ২০২২ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে এতিম শিশুদের নিয়ে বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার - ফটো কার্ড
মার্চ ৩, ২০২২ ৭:২৭ অপরাহ্ণ

শেরপুরে এতিম শিশুদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ মার্চ বুধবার শহরের চাপাতলীস্থ সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) জেলা সমাজসেবা অফিসের উদ্যোগে ওই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আর এ উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তুলে শিশু পরিবারের শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত নাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Shamol Bangla Ads

জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারি শিশু পরিবারের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বুধবার রাতে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. হাসান নাহিদ চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদ এজেড মোরশেদ আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুকতাদিরুল আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা, জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নাসরিন রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শরিফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কোহিনূর বেগম বিদ্যুৎ প্রমুখ।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ শেষে শিশুদের নিয়ে পিঠা উৎসবে অংশ নেন অতিথিরা। বড় বড় অতিথিদের সাথে পিঠা উৎসবের পিঠা খেতে পেরে খুশি এতিম শিশুরাও। এ উৎসবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠা, চিতই, গোটা পিঠা, লাভ পিঠা, মোয়া পিঠা, দুধ চিতই, পাটিসাপটা, নারকেল পুলি, দুধ পুলি, পুডিং, পায়েস, কেয়া, মাধবীলতাসহ ৩৩ রকমের বাহারি নামের পিঠা খাওয়ানো ও প্রদর্শিত হয়। এসব পিঠা তৈরী করা হয় শিশু পরিবারেই।

Shamol Bangla Ads

অনুষ্ঠানে কথা হয় এতিম শিশুদের সাথে। তারা জানায়, এখানে তাদের বাবা মার মতো আদর স্নেহ দিয়ে বড় করা হচ্ছে। যার উদাহরণ আজকের এই পিঠা উৎসব। শিশু পরিবারে শিশু রুনা আক্তার বলেন, আমি এখানে অনেকদিন থেকেই আছি। আমি দশম শ্রেণির একজন ছাত্রী। এখানে আমরা অনেক ভালো আছি। আজকে আমাদের এখানে পিঠা উৎসব হলো। খুব ভালো লাগছে আজকে। আমরা অনেক পিঠার নাম জানতাম না। আজকে নাম না জানা পিঠাগুলো খেলাম এবং পিঠাগুলোর সাথে পরিচিত হলাম। শিশু পরিবারের শিশু মোছা: সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছোট থেকেই বাবা হারিয়ে সরকারের সুযোগ সুবিধা নিয়ে এখানে ছোট থেকে বড় হয়েছি। এখানে থাকায় বাবার অভাব কখনো বোধ করি নাই। আজ আমাদের পিঠা উৎসব। আজ আমাদের এখানে অনেক বড় লোক আসছে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা সবার সাথে পিঠা খেতে পারছি।

এসব পিঠা খেয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে খুশি জনপ্রতিনিধি ও কমকর্তারাও। তারা জানান, এ শিশু পরিবারের শিশুরা সব কাজেই বেশ দক্ষ। ইতিমধ্যেই তারা সংস্কৃতি, খেলা ধুলায় বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা বলেন, আমাদের এ শিশু পরিবারের শিশুরা সকল কাজে পারদর্শী। আর আজকে ৩৩ রকমের পিঠা তৈরি করে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা পিঠা তৈরিতেও পারদর্শী।

শেরপুর সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শেরপুরের এ শিশু পরিবারটি নিয়ে প্রশাসনের সকল সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আজকে ৩৩ রকমের পিঠা তৈরি হয়েছে এখানে। আর সমাজসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দর ও পরিপাটি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করার উদ্দেশ্যই ছিলো এতিম শিশুদের বুঝানো তারা অসহায় নয়। আজকের এই পিঠা তৈরিতে আমাদের শিশুদের অবদান বেশি। তারা সব কিছুতেই এগিয়ে যাচ্ছে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ বলেন, আমরা এতিম শিশুদের সাথে পিঠা উৎসবে শরিক হতে পেরে আমাদের আসলেই ভালো লাগছে। আমরা তো সবাই নিজের বাড়িতে শীতের পিঠা খেয়েছি। কিন্তু তারা পিঠা খেতে পেরেছে কিনা অতটা শিওর না। আজকের এই পিঠা উৎসবের মাধ্যমে আমাদের সাথে পিঠা খাবে এইটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে।

Need Ads