ads

সোমবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নালিতাবাড়ীতে ৩ সহোদরের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ করলো শুভসংঘ

স্টাফ রিপোর্টার
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২ ২:২৬ অপরাহ্ণ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী কদমতলী গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর দম্পতি রমজান আলী ও গৃহিণী রওশন আরা বেগম। তাদের ঘর আলো করে আছে ৩ মেধাবী সন্তান রুপা, রুমানা ও রিয়াজ। এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া ওই ৩ মেধাবীর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল দরিদ্রতা। তাদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে না পারার চিন্তায় এক পর্যায়ে তাদের বাবা রমজান আলী ২ মেয়ের বিয়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
জানা যায়, দরিদ্র মেধাবী পরিবারটির খোঁজ পেয়ে তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে শুভসংঘ। মেধাবী ৩ সহোদরের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় শুভসংঘের পক্ষ থেকে ২০১৭ সাল থেকেই প্রতিবছর ৩৬ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে মেধাবী ওই ভাই-বোনদের। যা অদ্যাবধি চলমান রয়েছে। এ ছাড়া দিনমজুর রমজান আলীর চাহিদা অনুযায়ী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেওয়া হয় শুভসংঘের পক্ষ থেকে।
দরিদ্রতাকে জয় করে ২০১৬ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছিল বড় বোন সুলতানা রাজিয়া রুপা। সে এখন শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্সে তৃতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছে। ২০১৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া ছোট বোন রুমানা জান্নাত পড়ালেখা করছে রাজধানীর উত্তরার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি)। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ১২ সেমিস্টারের ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে চতুর্থ সেমিস্টারে পড়ছে। বড় ২ বোনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২০১৯ সালে ছোট ভাই রিয়াজ হাসান এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে চমক দেখায়। বরাবর বিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অধিকার করা রিয়াজ এখন গাইবান্ধা সরকারি ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে আট সেমিস্টারের ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে দ্বিতীয় সেমিস্টারে পড়ছে।
রুমানা ও রিয়াজ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে, ‘আমরা কালের কণ্ঠের শুভসংঘ এবং বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞ। যদি তাদের সহায়তা না পেতাম, তাহলে হয়তো আমাদের পড়ালেখাটাই বন্ধ হয়ে যেত। এলাকার স্কুলে পড়ার সময় লেখাপড়ার তেমন খরচ ছিল না। কিন্তু কলেজে ও উচ্চশিক্ষায় যে কী খরচ সেটা এখন আমরা প্রতিনিয়ত অনুধাবন করছি।
তাদের বোন রুপার চোখে-মুখেও ছিল শুভসংঘের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। রুপা বলে, ‘খরচের কথা চিন্তা করেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হওয়া হয়নি। এ কারণে নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে হয়েছে। সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট হওয়ায় সেখান প্রতি মাসে এক হাজার ৮০০ টাকা বৃত্তি পাওয়া যায়। খাবারের জন্য এক হাজার টাকা কেটে রাখে আর মাসে ৮০০ টাকা দিয়ে এখন নিজের খরচ নিজেই চালাতে চেষ্টা করি। আর কিছুদিন কষ্ট হবে। তারপর আমিই সংসারের হাত ধরতে পারব বলে আশা করছি। এখন আমি নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছি। এই সহায়তা না পেলে হয়তো আমরা কবেই হারিয়ে যেতাম। ’
তাদের বাবা রমজান আলী বলেন, ‘আমার মনে অইতাছে, আমগরে হয়তো দুঃখ-কষ্টের দিন সামনে ফুরাইব। যি ট্যাহাটা পাইতাছি, এই ট্যাহাডা না অইলে কী যে বিপদ অইত, এইডা কওয়ার নাই। হেরা পাশে না থাকলে পুনাইডির নেহাপড়া আগাইতই না। এই যে সহায়তা পাইতাছি, আল্লার কাছে দোয়া করি, সবাইরে আল্লায় ভালা করুক। আমার মতো আরও মানুষগরে পাশে থাইক্কা, তাগরে জীবনডা ঘুরাই দেওনের আরো তৌফিক দেক। ’ মা রওশন আরা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ‘এই যে পুনাইডি নেহাপড়াত বালা, আমগরে তো সামর্থ্য নাই। আগে পুনাইর নেহাপড়া চালাইতে, সংসারের খরচ সামলাইতে ট্যাহা সুদে কর্জ নিছি। কিন্তু সহায়তাডা পাওয়ার পরে থাইক্কা আর সুদে কর্জ নেই না। যার কেউ নাই, তার আল্লায় আছে, ওই বিশ্বাস আছিল। সহায়তাডা না পাইলে হয়তো পুনাইর নেহাপড়াই অইত না। অহন আশা করতাছি পুনাইপান নেহাপড়া কইরা খাড়াই পড়ব’।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!