শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পরকীয়ার অভিযোগে ৪৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীকে বেধড়ক মারধর করে ওই নারীর মাথার চুল টেনে ছিঁড়ে গায়ে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৮ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দাওধারা-কাটাবাড়ি গ্রামে নির্যাতনের ওই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি রবিবার মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বিধবার ছেলে।

নির্যাতিতা নারী, তার স্বজন ও প্রতিবেশিরা জানান, একই গ্রামের আব্দুর রহিমের সাথে বিধ্বা ওই নারীর স্বামীর বন্ধুত্ব ছিল। সে সুবাদে বন্ধুর মৃত্যুর পরও রহিম এবং ওই নারীর মাঝে যোগাযোগ চলছিল। এ নিয়ে এর আগে একাধিকবার দুই পরিবারের মাঝে ঝগড়াও হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার বিকেলে বিধবা এবং নবম শ্রেণি পড়ুয়া তার কন্যা বাড়িতে ছিলেন। ওইসময় রহিমের স্ত্রী, তিন কন্যা, পুত্রবধূ ও নাতী মিলে বিধবার বাড়িতে আকস্মিক ঢুকে এবং উপর্যুপরি মারধর শুরু করে। মারধর ফেরাতে গেলে স্কুলপড়ুয়া কিশোরী কন্যাকেও মারধর করা হয়। ওইসময় বিধবার মাথার চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলে তার গায়ে মরিচের গুঁড়া ঢেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে মাখিয়ে দেওয়া হয়। এতে মা-মেয়ে চিৎকার-চেচামেচি শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশিরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং নালিতাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে।
কিন্তু রহিম স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিধবা হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। বাড়ি যাওয়ার পর বেশি অসুস্থ বোধ করায় পুনরায় শনিবার নালিতাবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিধবার কন্যা ও ছেলে। এদিকে এ ঘটনা শোনার পর রবিবার বিকেলে থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করে।
এ বিষয়ে আব্দুর রহিম জানান, তিনি ওই নারীকে পার্শ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলায় নিয়ে মুন্সী বিয়ে পড়িয়েছেন। তবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেননি। এখন তিনি রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে নেবেন।

তবে বিধবা নারী জানিয়েছেন, তাকে শুধু মুন্সী দিয়ে বিয়ে পড়ানো হলেও সে সময় অন্য কোন সাক্ষী রাখা হয়নি এবং রেজিস্ট্রিও করা হয়নি। এমন নির্যাতনের পর তিনি রহিমকে বিয়ে করতেও আপত্তি করেন।
নির্যাতিতা কন্যা এবং একমাত্র ছেলে আইনী সহায়তা চেয়ে নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন। স্থানীয় নয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদল জানান, ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাদীপক্ষের আবেদন সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




