শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ৮৮টি কেন্দ্রে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ উৎসব মুখর পরিবেশে শামিল হয়েছেন ১২৩ বছরের অশীতিপর বৃদ্ধ আব্দুল সেখও। ২৬ ডিসেম্বর রোববার দুপুরে শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের আবুয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভাতিজার কোলে চড়ে ভোট দিতে আসেন তিনি আব্দুল সেখ এ ইউনিয়নের দেয়ারচর পূর্বপাড়ার মৃত টইনা সেখের ছেলে।

সরেজমিনে আবুয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল সেখকে প্রথমে রিক্সাভ্যান দিয়ে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন তাঁর ভাতিজা আবু বকর। পরে আবু বকরের কোলে ওঠে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে ভোট দেন তিনি। আব্দুল সেখ আধো আধো কণ্ঠে জানান, কয়দিন বাঁচি ঠিক নাই। তাই জীবনের শেষ ভোটটা আজকে দিবার আইছি ভাতিজার কোলে চইড়া। তার ভাতিজা আবু বকর জানান, আমার জ্যাঠা বয়সের ভারে হাঁটতে পারেন না। হয়তো এটাই শেষ ভোট। এজন্য ভ্যানগাড়ি করে তাঁকে ভোট দিতে নিয়ে এসেছি।
আবুয়ারপাড়া কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ২৪১ জন। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের আগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। প্রায় একই ধরনের চিত্র দেখা যায় সদর ইউনিয়নের নিজমামদামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এখানে স্বজনদের সহায়তায় ভোট দিতে এসেছেন ৮৬ বছর বয়স্ক অশীতিপর বৃদ্ধা আহিতন বেগম। তিনি স্থানীয় মৃত খোরশেদ মিয়ার স্ত্রী। তিনি জানান, তার এক আত্মীয় নির্বাচন করছেন। এজন্য কষ্ট হলেও ভ্যানগাড়িতে করে ভোটটা দিতে এসেছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার নির্বাচনে শ্রীবরদীর ৫৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৩২৯ জন সাধারণ সদস্য প্রার্থী ও ১৩৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫৫৯ জন। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেন।




