শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আর্থিক সংকটে চিকিৎসা করাতে পারছেন না মসজিদের ইমাম চাঁন মিয়া (৭৫)। তিনি উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের দাড়িয়ারপাড় জামে মসজিদের ইমাম ও উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে। বর্তমানে তিনি হৃদযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

জানা যায়, ২ ছেলে ২ মেয়েসহ ৬ সদস্যের পরিবার চাঁন মিয়ার। এর মধ্যে ২ ছেলে ও ১ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ২ ছেলে দিনমজুর। নিজেদের সংসারের বোঝা বহন করতে হিমশিম খেতে হয় দিনমজুর ছেলেদের। বাড়িভিটে ছাড়া সহায়-সম্বল বলতে কিছুই নেই চাঁন মিয়ার। মসজিদের ইমামতি করে ৩ হাজার টাকা পান চাঁন মিয়া। তাই দিয়ে কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে চলে তার সংসার। তিনি দীর্ঘদিন থেকে হৃদযন্ত্রের রোগে ভুগছেন। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
গত ১১ নভেম্বর রাতে মসজিদে এশার নামাজের পর চাঁন মিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ডেফলাই গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মোশারফ হোসেন নামে এক যুবক তাকে দ্রুত ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার চিকিৎসায় সহায়তা করে আসছেন। তবে তার পক্ষে পুরো ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। আর্থিক সংকটের কারণে তার চিকিৎসা করাতে পারছেন না দরিদ্র পরিবারটি।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকার ওষুধ দিতে হচ্ছে তার চিকিৎসার জন্য। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এ টাকা যোগানো সম্ভব হচ্ছে না। তার চিকিৎসার ব্যয় ভার মেটাতে না পেরে পরিবারটি এখন দিশেহারা। ১৫ নভেম্বর সোমবার একদিনের চিকিৎসার ব্যয়ভার ২ হাজার টাকা দিয়েছেন ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান। পরবর্তীতে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার সুযোগ নেই পরিবারের সদস্যদের। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁন মিয়ার স্ত্রী হামেদা বেগম তার স্বামীর জীবন বাঁচাতে প্রশাসনসহ সমাজের সকল বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। সাহায্য পাঠাতে ওই পরিবার সদস্যদের সাথে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ( মোবাইল : ০১৭৫৩-৪০৭৯০৮)




