ads

রবিবার , ৮ আগস্ট ২০২১ | ৪ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শ্রীবরদীতে বলন চারায় আমন চাষাবাদে ব্যস্ত কৃষকরা 

রেজাউল করিম বকুল - ফটো কার্ড
আগস্ট ৮, ২০২১ ২:০১ অপরাহ্ণ

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শেরপুরের শ্রীবরদীতে এখন আমন ধান চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোপিত বলন চারা উত্তোলন করে তা ক্ষেতে-ক্ষেতে রোপনের ধুম চলছে। এতে ফলনে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে শ্রীবরদী উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমি আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওইসব জমিতে প্রতিবছর আষাঢ়ের প্রথম দিকেই শুরু হয় চাষাবাদ। এবার কেউ আগাম চাষাবাদের জন্যে বীজতলায় আগেই বীজ বপন করেছেন। তবে এখন চলছে পুরোদমে বীজতলা থেকে উত্তোলন করে রোপনের কাজ। বন্যাকবলিত কৃষকরা আগেই বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনের পর ঘন করে অল্প জমিতে রোপন করেছিলেন। এখন আবার সেখান থেকে উত্তোলন করে অন্যত্র রোপন করছেন। ওইসব রোপা আমনের চারা বন্যা সহনীয়। বরং ফলনও বেশি হয়। এ জন্য দিন দিন এ পদ্ধতিতে আমনের চাষাবাদ বাড়ছে। নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করছেন কৃষকরা।

Shamol Bangla Ads

রবিবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে গেলে কথা হয় উপজেলার রানীশিমুল মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক তারা মিয়ার সাথে। তিনি জানান, ‘আমরা মেলা কষ্ট করছি। অহন বিজতলা থাইক্যা জ্বালা তুইল্লা আগে রোপন করি। একমাস পর আবার এই জ্বালা তুইল্লা অন্য ক্ষেতে রোপন করি। অহন বন্যায় পানিতে ধানক্ষেত ডুবলেও নষ্ট অইবো না। ফলনও আরো বেশি অইবো’। তিনি আরও জানান, প্রতি বছর প্রায় আড়াই একর জমি আমন ধান চাষ করি। এর মধ্যে বন্যা কবলিত প্রায় দেড় একর। ওই দেড় একর জমিতে আগে প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল আর বন্যার পানিতে ডুবে আমন ধান ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। কয়েক বছর যাবত তারা বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকের কাছ থেকে শোনে নিজেরাও ওই পদ্ধতিতে বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের আমন ধানের চাষ করছেন। এতে একাধিবার বন্যার পানিতে ডুবলেও ক্ষেতের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং ফলন আরও বেশি হয়। একই কথা শোনান তার প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, ফকির মিয়া, ফজল মিয়া, আলমগীর হোসেনসহ বন্যা কবলিত এলাকার অনেক কৃষক।
উপজেলার বিলভরট গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম ও কাকিলাকুড়ার আমজাদ আলীসহ আরও অনেকে জানান, বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের ন্যায্য মূল্যও পেয়েছেন ভালো। এজন্য আগেভাগেই অনেকে বীজতলা তৈরি করে বীজ বপন করে এখন ক্ষেতে রোপন করছেন। তাদের মতে, দিন দিন হাইব্রিড জাতের ধানের চাষাবাদ বাড়ছে। তবে কতিপয় কৃষক পাইজম, নাতিশাল ও তুলশীমালাসহ দেশীয় জাতের কিছু ধানের চাষ করছেন। আমজাদ আলী বলেন, এ মাসে মুসলধারে বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু সেই পরিমাণ বৃষ্টি এখনো হয়নি। এ জন্য অনেকেরই আমনের চাষাবাদে বিলম্ব হচ্ছে। বকচর গ্রামের আমের আলী বলেন, এখন সেচ দেয়ার মতো সুযোগও নেই। এজন্য বৃষ্টির ওপরই ভরসা। তবে নিম্ন এলাকার কৃষকরা এখন আমন চাষাবাদে ব্যস্ত।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা ওই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এতে বন্যার কবল থেকে সহজেই রক্ষা পায়। ধানের ফলনও ভালো হয়। এ জন্য দিন দিন বাড়ছে দু’বার করে আমনের চারা রোপন পদ্ধতিতে চাষাবাদ। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে চাষাবাদ কিছুটা ব্যাহত হলেও এখনও অনেক সময় রয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ সামনে আরও এক মাস আমন চাষাবাদের উপযুক্ত সময়। এতে ফলনেরও কোনো সমস্যা হবে না। বৃষ্টি হলে এ সমস্যা সমাধান হবে। তবে এলাকার কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন- নতুন ওই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে বন্যাকে হার মানানো যাবে। আর এতে আমন চাষে ফলনে বিপ্লব ঘটতে পারে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads