শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ছনের ঘরে থাকা হতদরিদ্র দিনমজুর হেলাল মিয়ার (৬২) ভাগ্যে জুটেনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের দুর্যোগসহনীয় ঘর। ওই অবস্থায় অনেক কষ্ট করে ছনের ঘরে জীবনযাপন করছেন হেলাল ও তার পরিবারের সদস্যরা। হেলালের বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামে।
জানা যায়, দিনমজুর হেলাল মিয়ার ৯ শতাংশ জমির বসতভিটায় দুইটা ছনের ঘর। একটি ছনের ঘরে স্ত্রীসহ নিজে থাকেন হেলাল মিয়া। অপর ঘরটির একপাশে ছাগলের থাকার জায়গা, অন্যপাশে মেয়ের বিছানা। তার বাড়িতে সরকারের দেওয়া একটি সোলার (সৌর বিদ্যুত) আছে। কিন্তু ঘরের চাল মজবুত না হওয়ায়, বাঁশের খুঁটি দিয়ে সোলার প্যানেল লাগানো হয়েছে।

হেলাল মিয়া জানান, ৩০ বছর আগে ৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। কিন্তু দিনমজুরি করে উর্পাজিত আয় দিয়ে ২ ছেলে-মেয়েসহ ৪ জনের সংসার চালানোই কঠিন। তাই বাড়ি করা আর সম্ভব হয়নি। কোন রকমে ছন দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছেন তিনি। টাকার জন্য বসত ভিটায় মাটি কেটে উঁচুও করতে পারেননি। তাই বর্ষা মৌসুমে বাড়িতে পানি উঠে। তার একটি ঘর দরকার, ঘরটি পেলে তার দুঃখ ঘুচতো, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই হতো। ঘর পেলে সন্তানদের জন্য রেখে, মরেও শান্তি পাবেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, শুনছি গরিবের ঘর আইছে, হাসিনা আপা (প্রধানমন্ত্রী) অনেক মানুষরে নাকি ঘর দিতাছে। এমন কথা শোনার পর থেকে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, নেতাদের পেছনে ঘুরেও ঘর পাইনি। আবার অনেকেই ঘুষ চাইছে। আমি কামলা দিয়ে যা পাই তা খাই। নিজের পেটই চলে না, আমি ঘুষ দিমু ক্যামনে। ঘর ছাড়াই থাকমু কিন্তু সরকারি ঘর, ঘুষ দিয়ে নিমু না। আমার ঘর করার সামর্থ্য নেই। আমি একটা ঘর ভিক্ষা চাই। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাঁচতে চাই।
হেলালের স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন, তাদের দুইটা ছনের ঘর। একটা ঘরে তারা স্বামী-স্ত্রী থাকে। অপর ঘরটাতে একপাশে গরু-ছাগল, অন্যপাশে মেয়েটা থাকে। তাদের ছেলেটা মাদ্রাসায় পড়ে। মাদ্রাসা থেকে ছুটিতে আসলে, মেয়েটা তাদের সঙ্গেই রাত্রিযাপন করে। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির দিনে ঘরে থাকা যায় না, চাল চুঁয়ে পানি পড়ে। কিছুদিন আগে ঘরে যাতে বৃষ্টির পানি না ঢুকে, সেজন্য ঘরের চালে পলিথিন কাগজ লাগানো হয়েছে। তার স্বামী দিনমজুর কাজ করে অনেক কষ্টে সংসার চালায়। তিনি নিজেও অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এঅবস্থায় তাদের বাড়ি নির্মাণ অসম্ভব। তার স্বামীর মত তিনিও সরকারের কাছে একটি ঘর ভিক্ষা চাইছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, সরকার এমন অসহায় লোকই খোঁজছে। তার বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। এমন অবস্থার কথা জানতে পারলে, অনেক আগেই খোঁজ নিয়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হত। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ‘জমি আছে, ঘর নাই’ এ প্রকল্প আসলে তাকে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এছাড়া সরকারের অন্যান্য সহায়তা তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।




