ads

সোমবার , ১৫ মার্চ ২০২১ | ৩ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

পঙ্গু জীবন বইতে পারছেন না সুমন

রেজাউল করিম বকুল - ফটো কার্ড
মার্চ ১৫, ২০২১ ৬:১৭ অপরাহ্ণ

টগবগে যুবক সুমন। কায়িক পরিশ্রম করে চলছিল তার সংসার। মা-বাবা আর ভাই-বোনের ভরণ পোষণে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল সে। চলছিল বিয়ের আয়োজন। বিয়ে করে সংসারটাকে আরো নতুন করে সাঁজাবেন। দেখতেন রঙ্গিন স্বপ্ন। এর মধ্যে ঘটে গেল দুর্ঘটনা। এতে হারালেন দু’ পা। সুমনের জীবন থেকে নিভে গেল স্বপ্নগুলো। দুর্বিষহ ওঠে জীবন। এখন বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছেন। চোখে মুখে শুধু হতাশা। সুমনের পঙ্গুত্ব জীবন যেন আর চলছে না। মা-বাবা আর ভাই-বোনের ভরণ-পোষণ কে করবে? তার চিকিৎসার খরচ আসবে কিভাবে? এমনি নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সুমনের চোখে মুখে। তার বৃদ্ধ বাবার সংসারের চাকা টেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পঙ্গু সুমনের আকাশে এখন শুধু মেঘ। হতদরিদ্র পরিবারের এই যুবক শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ছনকান্দা গ্রামের রিক্সা চালক আহালু মিয়ার ছেলে। ১৪ মার্চ রবিবার সরেজমিনে সুমনের বাড়িতে গেলে ফুটে ওঠে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা।
জানা যায়, সুমনের বয়স ২২ বছর। তার বাবা আহালু মিয়া রিক্সা চালক। মা আঙ্গুরি বেগম গৃহিনী। তারা ৩ ভাই, ৩ বোন। ভাইদের মধ্যে সুমন সবার বড়। এ সংসারের হাল ধরতে সুমন ছোট থেকেই প্রাইমারি স্কুল ছেড়ে কাজে নেমে পড়ে। রাইস মিলের শ্রমিকের কাজ করে সংসারের হাল ধরেছিল সে। কিন্তু করোনাকালে বন্ধ হয় রাইস মিল। বেকার হয়ে পড়ে সুমন। কিছুদিন বেকার থাকার পর কাজ নেয় একটি ট্রলির হেলপারের। গত ১৪ জানুয়ারি ধান বোঝাই ট্রলি নিয়ে শ্রীবরদী হতে যাচ্ছিল শেরপুরে। ঝুলছিল ট্রলির চালকের পাশে। ওইসময় কুরুয়া বাজারের যাওয়ার আগেই চলন্ত ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে সুমন। ট্রলির চাকার নিচে পড়ে তার দু’পা। এতে ক্ষত-বিক্ষত হয় পায়ের হাড়গুলো। ওই সময় আশপাশের লোকজন তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় জেলা সদর হাসপাতালে। এখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে রেফার করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তাররা বাধ্য হয়ে তার দু’পা কেটে ফেলেন। এখানে তার চিকিৎসা চলে কয়েক মাস। কিছুটা সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসে সুমন। কিন্তু হারিয়েছে দু’পা। আর কোনো দিন সে হাঁটতে পারবে না। হুইল চেয়ারে বসে বয়ে বেড়াতে হবে পঙ্গুত্ব জীবন। তার আয়ে চলতো সংসার। এখন সুমনকেই চেয়ে থাকতে হয় পরিবারের দিকে। চলতে হয় দু’হাতের ওপর ভর দিয়ে। তার চিকিৎসায় প্রতিদিন প্রায় দু’শ টাকা খরচ হচ্ছে। তার বাবা রিক্সা চালক আহালু মিয়া। তিনি যে আয় করেন তা দিয়ে সংসারের খাবার জোটানোই কষ্টসাধ্য। চিকিৎসার খরচ কোথায় পাবে?

Shamol Bangla Ads

সুমন জানায়, গত ১৪ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার তার আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি হুইল চেয়ার দিয়েছেন। অসহায় সুমন বলেন, আমার মেলা স্বপ্ন ছিল। ছোট ভাই বোনকে পড়ালেখা করামু। বোনগুলো বিয়ে দিমু। নিজের সংসারটাও সুন্দর করে সাঁজামু। অহন সব শেষ। নিজেই চলতে পারি না। সংসার চালামু ক্যামনে? তার বাবা আহালু মিয়া বলেন, আমি ছেলের চিকিৎসা আর সংসার চালানো লাইগা ঢাকায় যামু রিক্সা চালাতে। কষ্ট কইরা হলেও তাকে সুস্থ্য কইরা তুলমো। আমি চাই না যাতে আমার ছেলে মানষের কাছে হাত পাতে। তিনি আরো বলেন, বড় মেয়েডা বিয়ে দিছি। অহন দুইডা মেয়ে বিয়ে দিতে পারি নাই। ছুডো দুইটা ছেলে। তারাতো আয় করতে পারে না। অহন সংসারের খরচ জোগাড় করাই অসম্ভব। তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে একটি মুদি দোকান করে দিলে হয়তো দিন চলার একটা ব্যবস্থা হতো। তার মা আঙ্গুরি বেগম বলেন, পোলাডারে নিয়া মেলা আশা ছিল। সব শেষ। কেউ যদি পোলাডারে সহযোগিতা করতো তা হলে ব্যবসা কইরা কোনো মতো চলতে পারতো। হয়তো কেউ আসবে সুমনের সহযোগিতায়। দু’পা ফিরে না পেলেও ফিরে পাবে তার সংসারের স্বচ্ছলতা। ভুলে থাকতে পারবে পঙ্গুত্ব জীবন। এমনটাই প্রত্যাশা ওই পরিবারসহ সকলের।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads