শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের শ্রীবরদীতে বন্যা পরবর্তী খালেরপাড় ভাঙনের কবলে পড়েছে ৪ টি পরিবারের ঘরবাড়ি। পৌর শহরের জালকাটা এলাকার পরিবারগুলো কয়েকদিন যাবত খালেরপাড় ভাঙনের কবলে পড়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। ২ সেপ্টেম্বর সোমবার সরেজমিন গেলে দেখা যায় তাদের খালেরপাড় ভাঙনের চিত্র।
জানা যায়, শ্রীবরদী সীমান্ত এলাকা হয়ে নেমে আসা সোমেশ্বরীর নদীর শাখা বয়ে আসছে পোড়াগড় ব্রিজের নিচ দিয়ে জালকাটা হয়ে ষাইটকাকড়া বিলে। গত বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙে যায় জালকাটা এলাকার খালেরপাড় ঘেষেঁ কাচাঁ সড়ক। ওই সড়কটির পাশে ছিল কয়েকটি বাড়ি। ইতোমধ্যে খালেরপাড় ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েকজন বাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি খালের পানি নেমে গেলেও দেখা দিয়েছে খালেরপাড় ভাঙন। সম্প্রতি ভাঙনের কবলে পড়ে ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন হাবিবুর রহমান ওরফে খটটু মিয়া, মমতাজ উদ্দিন, কুদ্দুস আলী ও ময়না বেগম। এদের মধ্যে ময়না বেগম জানান, বন্যার পর থেকে একটু একটু করে খালের পাড় ভেঙে আসছে। এর মধ্যে তাদের বাড়ির কিছু অংশ ভেঙে গেছে। কয়েকদিন আগে বসতঘরটিও পড়েছে ভাঙনের কবলে। তিনি বলেন, আমি বিধবা। ছেলে মেয়ে নিয়ে এই এক খন্ড জমিতে ঘর তুলে বসবাস করে আসছি। আমার আর কোনো সহায় সম্পদ নাই। অহন বসত ঘর সরাইতাছি। এভাবে ভাঙতে থাকলে আমার বাড়ি পুরাডাই খালে পইরা যাইব। আপনারাই কন কই যামু? ভাঙন কবলিত জহুরা বেগম বলেন, এক ছেলে আর দুই এতিম নাতি নিয়ে কোনো মতো এইহানে থাহি। ঘরডা যদি খালে ভাইঙ্গা যায় তাহলে আর ঘর তোলার জায়গা নাই। তার মতো হতদরিদ্র কুদ্দুছ আলী, মমতাজ উদ্দিন ও খটটু মিয়া শোনালেন একই কথা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা যদি আবেদন করে তাহলে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে প্রশাসন বা কোনো জনপ্রতিনিধিরা খালেরপাড়ে বাঁধ দিয়ে ভাঙন বন্ধ করবে। এতে রক্ষা পাবে তাদের বাড়ি- এমনটাই দাবি তুলেছেন সেখানকার ভাঙন কবলিত লোকজনসহ স্থানীয়রা।




