স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরের পল্লীতে দা দিয়ে কুপিয়ে পুত্রকে হত্যার ঘটনায় পিতা অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী মুসলিম উদ্দিন (৬৫) কে গ্রেফতারের পর পুলিশ আভিযান চালিয়ে সৎ মা মলেদা বেগম ও সৎ বোন মেরি আক্তারকে গ্রেফতার করেছে। ২৪ আগস্ট শনিবার বিকেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। একইসাথে হত্যায় ব্যবহৃত বাকি দা’টিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম। ওইসময় পুত্র হন্তারক মুসলিমকে হত্যার ঘটনাস্থল মাছপাড়া পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং উপস্থিত শত শত গ্রামবাসীর সামনে সে হত্যার দায় স্বীকার করে। এ প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মী ও স্থানীয় জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক, মর্মান্তিক। আমাদের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় চলছে- এ হত্যাকা- তার প্রমাণ। সামান্য অর্থ ও বিত্তের জন্য বাবা ছেলেকে ছাড় দিচ্ছে না। ছেলে বাবাকে ছাড় দিচ্ছে না। অর্থ ও স্বার্থের জন্য আমরা নীতি-নৈতিকতা সব ভুলতে বসেছি।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওই ঘটনায় পিতাসহ সৎ মা-বোনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের মাছপাড়া গ্রামের মৃত নইমুদ্দিনের ছেলে সাবেক কারারক্ষী মুসলিম উদ্দিনের সাথে আবাদী জমি ও পেনশনের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বড় ছেলে নিহত শফিকুল ইসলামের (৩৫) বিবাদ চলছিল। ওই বিবাদের জের ধরে শনিবার সকাল ৯টার দিকে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে পিতা মুসলিম উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে হাতে থাকা পাট কাটার বাকি দা দিয়ে ছেলে শফিকুলকে কোপালে সে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।




