দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা শূন্যতে নেমে এলেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কমছে না মৃত্যু। বরং আবারও বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ৯ জনের মৃত্যু। হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন করোনার উপসর্গ নিয়ে ও একজন করোনায় মারা গেছেন। গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য চলছে। সরকার বাইরে সকলকে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করলেও অধিকাংশ মানুষই মাস্ক পড়ছে না।

২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. মহিউদ্দিন খান মুন। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে ইউনিটটিতে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ময়মনসিংহের চারজন, নেত্রকোনার তিনজন ও টাঙ্গাইলের একজন রয়েছেন। তারা হলেন- ময়মনসিংহ সদরের সমলা (৭০), তহুরা বেগম (৪৫), তারাকান্দা উপজেলার আয়েশা খাতুন (৭৫), হালুয়াঘাটের মেদেন সিথিল (৬২), নেত্রকোনা সদরের আয়েশা আক্তার (৭০), দুর্গাপুর উপজেলার প্রমোধ পাল (৬০), মোহনগঞ্জের শফিকুল ইসলাম (১৫) ও টাঙ্গাইলের গোপালপুরের হাসমত আলী (৬০)।
এ ছাড়াও একই সময়ের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অনিল চক্রবর্তী (৮৫) নামে আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। হয়েছে। তিনি ময়মনসিংহ সদরের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১০৬ জনের মৃত্যু হলো। গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ৯০১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
ডা. মুন আরও জানান, করোনা ইউনিটে নতুন করে ১৭ জন ভর্তিসহ ১৩৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ১২ জন। আর ওই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ জন। এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮২টি নমুনা পরীক্ষায় ১২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৮৫৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২০ হাজার ৮১১ জন।
সরকার বাইরে সকলকে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করলেও অধিকাংশ মানুষই মাস্ক পড়ছে না। অকারণ ঘোরাঘুরি, শপিংসহ সবকিছু খুলে দেয়ার প্রেক্ষিতে অবাধ চলাচলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ জানান। গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য চলছে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা বাইরে ঘুরাঘুরি করার প্রেক্ষিতে করোনা সংখ্যা দিন দিন হারে বাড়ছে। দ্রুত আক্রান্তের লাগাম ধরে টানতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে বাধ্য করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান।




