স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে আব্দুর রাজ্জাক (৫০) নামে এক লম্পটের পাশবিক নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ৫ বছরের শিশু সিয়াম। গত ৫ দিন ধরে জেলা সদর হাসপাতালের দু’তলায় সার্জারি ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসাধীন শিশু সিয়াম এখন অপরিচিত কোন পুরুষ লোককে দেখলেই আঁতকে উঠছে। জড়োসড়ো হয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। একমাত্র সন্তানের করুণদশায় মুষড়ে পড়েছে তার মা-বাবা। সিয়াম সদর উপজেলার ডোবারচর গ্রামের দরিদ্র রাজমিস্ত্রি মিস্টার আলীর একমাত্র সন্তান ও স্থানীয় সাকসেস একাডেমীর প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী। আর লম্পট রাজ্জাক একই গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর পুত্র। সোমবার দুপুরে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করা ওই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি লম্পট আব্দুর রাজ্জাক।
জানা যায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে কাঠের বাগানে খেলা করছিল শিশু সিয়াম। ওইসময় লম্পট আব্দুর রাজ্জাক তাকে চকলেট দেয়ার প্রলোভনে ডেকে নিয়ে যায় বাগানের পাশেই থাকা নিজের শ্যালো মেশিনঘরে। এরপর রাজ্জাক তার বিকৃত কামনার বাসনা চরিতার্থ করতে পরনের হাফপ্যান্ট খুলে সিয়ামের প্রতি পাশবিক নির্যাতন চালায়। এতে সে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ডাক-চিৎকারে মা শিল্পী বেগমসহ আশেপাশের লোকজন ওই মেশিনঘরের দিকে ছুটে গেলে সিয়ামকে ফেলে রেখেই দ্রুত সটকে পড়ে লম্পট রাজ্জাক। পরে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় সিয়ামকে উদ্ধার করে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মোবারক হোসেন জানান, সোমবার শিশু সিয়ামের ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে তার অবস্থাটা এখন উন্নতির দিকে। ওই অবস্থায় ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্নকারী সার্জিক্যাল সাজেন্ট ডাঃ মুক্তি মাহমুদ এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।
এদিকে ঘটনার পরদিন সিয়ামের হতভাগ্য বাবা লম্পট আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করলেও ৪ দিনেও গ্রেফতার হয়নি রাজ্জাক। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল লম্পট রাজ্জাককে রক্ষায় আপোসরফার নামে সিয়ামের পরিবারের প্রতি নানা চাপ সৃষ্টি করছে। উল্লেখ্য, লম্পট রাজ্জাক কয়েক বছর আগেও পাশের বাড়ির এক শিশুকন্যাকে একই মেশিনঘরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায় এবং ওই ঘটনায় দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর আপোসরফায় বেরিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ শাজাহান মিয়া বলেন, ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত রাজ্জাককে দ্রুত গ্রেফতারেও চেষ্টা চলছে।




