
স্টাফ রিপোর্টার : এবার শেরপুর সীমান্তে ২ হাজার বিমান বিধ্বংসী গোলাসহ ৩৯ হাজার পিস গুলি উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)। ১ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ৮টা থেকে র্যাব হেডকোয়ার্টার ও র্যাব-৫ এর একটি বিশেষ দল গারো পাহাড়ের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বুরুঙ্গা কালাপানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গহীন অরণ্যের মাটির নিচ থেকে ওই গুলি উদ্ধার করে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান বিধ্বংসী কামানের গোলা ২ হাজার, ২২ হাজার মেশিনগানের গুলি, ১৭ হাজার পিস শর্টগানের গুলি ও সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ওয়াকিটকি। সবগুলো অস্ত্রই প্যাকেট ভর্তি অবস্থায় মাটির নিচে ছিল। এছাড়া উদ্ধারকৃত ওইসব অস্ত্রগুলো সাধারণত সামরিক বাহিনীরা ব্যবহার করে থাকে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়ারীশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে র্যাবÑ৫ রাজশাহী অঞ্চল থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধুটিলা ইকোপার্কের পাশে ও ভারতের মেঘালয় সীমানা সংলগ্ন ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও পুলিশ এলাকাটি ঘেরাও করে রাখে। জনগণের চলাচলের উপর আরোপ করা হয় বিধি-নিষেধ। সূত্রমতে, রবিবার সকালে র্যাব-৫ এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম এবং কোম্পানি কমান্ডার মোব্বাশেরুল ইসলামের নেতৃেত্ব ৫০/৬০ জনের একটি দল পাহাড়ের ৪টি স্থানে ওই অভিযান চালিয়ে ওই বিপুল পরিমাণ ভারী গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এছাড়া অভিযানকে ঘিরে রবিবার রাত থেকেই র্যাবের বিশেষ দল জেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা আরোপ করা হয়েছে। বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে র্যাব জানিয়েছে।
এর আগেও ২০১০ সালে ঝিনাইগাতির বাকাঁকুড়া গুচ্ছগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ হাজার রাইফেলের গুলি। ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৫০ হাজার গুলি, রকেট, মাইন ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হয়। ২০১২ সালে নালিতাবাড়ির এক গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয় একে-৪৭ রাইফেল ও গুলি। মাইন উদ্ধারের পর ২০১০ সালে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সেগুলো ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘সংযুক্ত মুক্তি বাহিনী অসম’ বা ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফার) এর ফেলে যাওয়া গোলাবারুদ বলে ধারণা করছে তারা।

উল্লেখ্য, পর্যটকদের নজরকাড়া স্পট হিসেবে মধুটিলা ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠার স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিচিতি ও সু-খ্যাতি পেলেও ওই এলাকায় সাম্প্রতিক গৃহবধূর শ্লীলতাহানি, শিশু রাহাত হত্যা ও একাধিক নারীকে ধর্ষণসহ পর্ণোগ্রাফী ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কিছু লোমহর্ষক ঘটনায় উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ায় চলতি শীত মৌসুমেও এলাকাটি পর্যটকের ভিড় কমে এসেছে।





