শ্যামলবাংলা ডেস্ক : চলতি সপ্তাহের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি হলে দলভিত্তিক পৌর নির্বাচন আয়োজন ডিসেম্বরে সম্ভব বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তা না হলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে। এখনও আইনের কপি হাতে না পাওয়ায় পৌর নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে ইসি। একই সঙ্গে বাড়ছে সংশয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, পৌরসভা আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারিতে বিলম্ব হলে বর্তমান পদ্ধতিতে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে হবে।
ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষমতা চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সবগুলো নির্বাচনের মেয়াদ একই ধরনের করার কথাও বলা হয়েছে ইসির চিঠিতে। এই প্রস্তাব গৃহীত হলে মেয়াদ শেষ হয়ে আসা ২৪৫ পৌর নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বরের পরেও ৯০ দিন অর্থাৎ আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় পেতে পারে ইসি। এর আগে নভেম্বরের শেষে ২৪৫ পৌরসভার তফসিল ও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের কথা জানিয়েছিল ইসি। তবে কর্মকর্তারা মনে করছেন, সবকিছুই নির্ভর করছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। বিদ্যমান আইনে পৌর পরিষদের মেয়াদ পূর্তির ৯০ দিন আগে এবং সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদপূর্তির ১৮০ দিন আগে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ১ নভেম্বর রবিবার ইসি কার্যালয় থেকে এলজিইডি সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে সবগুলো নির্বাচনের সময়সীমার মেয়াদ একই ধরনের করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে স্বল্পতম ও যুক্তিযুক্ত সময়ে নির্বাচনের সময়সীমা ইসি নির্ধারণ করবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। ইসির পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমার ক্ষেত্রে সবগুলো স্তরে একই সময় নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। সময় নির্ধারণের ক্ষমতা ইসির হাতে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সুপারিশ করা হয়েছে, মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে।
ইসি চিঠিতে দলভিত্তিক নির্বাচন করতে সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) আইনের সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবে নির্বাচন পেছানোর ক্ষমতা চেয়েছে তারা। কমিশন জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সব নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষের আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান চেয়েছে। রবিবারই ওই প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব আবদুল ওদুদ। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইনের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকারের সব সংস্থার নির্বাচন ও শূন্যপদে নির্বাচন অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করা সম্ভব হয় না। তাই আইনের সংশোধন করা প্রয়োজন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ বলেছেন, ২৪৫টি পৌরসভায় ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণেই তারা তড়িঘড়ি করছেন। ২-৪ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি হলে ডিসেম্বরের মধ্যে দলভিত্তিক পৌর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। আর তা না হলে কি হবে, তা এখনই বলা যাবে না। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে অর্থাৎ আগের মতোই নির্দলীয় পৌর নির্বাচন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একমাত্র জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া অন্য সব নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নির্ধারণে কমিশনের তেমন কিছু করার নেই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আইন দ্বারা যে সময় যে ধরনের নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়, ইসি সে অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন করে। যে কারণে পৌর নির্বাচনের সব প্রস্তুতি কার্যত থমকে আছে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এ ছাড়া নতুন ধরনের ব্যালট পেপার সরবরাহসহ ভোট গ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




