মনির হোসেন বাবুল,রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সড়ক ও জনপথের জায়গার উপর গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
জানা গেছে, রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের রামগঞ্জ ট্রাফিক সিগনাল (শেখ আমিন উল্লা চেয়ারম্যান সুপার মার্কেট) থেকে সোনাপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের পার্শ্বে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা সমূহ সরিয়ে নেয়ার জন্য সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ১ দিনের সময় বেঁধে দেয়। তা না হলে সকল অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়া হবে বলে নির্দেশ জারি করা হয়। পরে অবৈধ স্থাপনার মালিকরা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় চেয়ে নেয়। এছাড়া বুধবার (১৩ মে) সকালে অবৈধ স্থাপনার মালিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান না করার দাবীতে মানববন্ধন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্মারক লিপি প্রদান করেন। এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেয়ায় শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রাত ১২টার মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে পুনরায় মাইকিং করা হয়। এরপর অনেকেই তাদের স্থাপনা থেকে রাতেই মালামাল সরিয়ে নেয়। গতকাল সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুবুল আলম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রফিকুল হকের নেতৃত্বে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রামগঞ্জ শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফয়েজ আহম্মেদ উপস্থিতিতে বিপুল সংখ্যাক র্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের সহযোগীতায় শ্রমিকরা সড়ক ও জনপদের জায়গার উপর থেকে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়ে দেয়। উচ্ছেদ অভিযানের সময় প্রশাসনের লোকজন ছাড়াও উপজেলার হাজার হাজার উৎসুক লোকজনকে ভিড় জমাতে দেখা গেছে।
এছাড়াও ২০০৭ সালের ১/১১ পটপরিবর্তনের সময় সেনা বাহিনীর সহায়তায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়সহ সহস্্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। বিগত কয়েক বছর ধরে একটি প্রভাবশালী মহল প্রভাব খাটিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জায়গা পুনরায় দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলে।




