এস.এম.তারেক নেওয়াজ,হাসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে সাহেবেরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ প্রায় দেড় শতাধিক বসত বাড়ি। তাই ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।
সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার (০৪ আগষ্ট) তীব্র ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার সাহেবেরচর গ্রামের একমাত্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। স্কুলটি রক্ষায় বালির বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন এলাকার জনগন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মিয়া,সমাজ কর্মী ফরিদ উদ্দিন, সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, সরকারী ভাবে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনরোধে দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে অচিরেই স্কুল,মসজিদসহ দেড় শতার্ধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন অব্যাহত থাকলেও সরকারী ভাবে কার্যকরী উদ্যোগের অভাবে নদী পাড়ের বহু পরিবার সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন নিঃস্ব।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যহত ভাঙনে চরাঞ্চলে ভুমিহীনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।নদী ভাঙনের কবলে পড়ে শতশত পরিবার এখন গৃহহীন।এসব পরিবারের অনেকেই জীবিকার তাগিদে শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। কেউ কেউ অভাব অনটনে, রোগে ভোগে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অসহায় লোকজনের আর্তি সরকার যেন নদী ভাঙনে নিঃস্ব পরিবার গুলোর পাশে দাড়ায় এবং তাদের পূনবাসনের ব্যবস্থা করে।
উপজেলার সাহেবেরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ জানান, ইতঃপূর্বে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে আধাপাকা স্কুল ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে নির্মিত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটি এখন প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।এটি এবার বিলীন হলে বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পড়তে হবে সীমাহিন দূর্ভোগে।তাই তারা বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য আশু সরকারী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কাঞ্চন জানান, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।পাশাপাশি ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীর আবেদনে সাড়া দিয়ে এ বিষয়ে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহনের জন্য একটি প্রকল্প তৈরী করে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।




