শ্যামলবাংলা বিনোদন : ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত নিজের দেহদান করবেন। এটা কোন ছবির গল্প নয়, সত্যি সত্যিই তিনি দেহদান করবেন৷ মৃত্যুর পর দেহটা দান করে যাওয়ার ব্যাপারে ৮ জুন রবিবার হরিশ মুখার্জি রোডে গোখেল মেমোরিয়ালের সরলা মেমোরিয়াল হলে আনুষ্ঠানিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ হবেন তিনি৷ দেবদূত ঘোষ পরিচালিত ২২ মিনিট ব্যাপ্তির তথ্যচিত্র ‘প্রাণ থেকে প্রাণে’র উদ্বোধনী প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে দেহদানের ঘোষণা দেবেন ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।
হঠাৎ এমন একটা সিদ্ধান্ত কেন নিলেন ঋতুপর্ণা? উত্তরে তিনি জানান, চক্ষুদানের ইচ্ছে আমার অনেকদিনের৷ দেহদানের সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেললাম৷ মানুষ যখন মারা যায়, জীবন যখন শেষ হয়ে যায়, তখন আর দেহটার প্রয়োজন কী? যদি কোনও জীবন্ত মানুষের উপকারে দেহটা আসতে পারে, তার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে? দেহটা দান করে যাওয়াই ভালো অন্যের জন্য৷ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বরাবরই গিভিং পারসন৷ নেওয়ার থেকে দেওয়ায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছি৷ অন্যের উপকার করার চেষ্টা ছিল সাধ্যমতো৷ যদি মৃত্যুর পরেও কারও উপকারে আসতে পারি, সেটা তো ভীষণ আনন্দের৷ মৃত্যুর পরে নিজের দেহটা তো আর আমার কোনও কাজে লাগবে না৷ কিন্তু অন্যের কাজে তো আসবে!’
ঋতুপর্ণার পিসেমশাই ডঃ কল্যাণময় সেন বিজ্ঞানী ছিলেন৷ তিনিও দেহদান করেছিলেন৷ তাছাড়া তার এক মাসিও দেহদান করেন৷ বাড়ির অনেকেই চক্ষুদানও করেছেন৷ তারাই ঋতুপর্ণার অঙ্গদানের অনুপ্রেরণা। এই সিদ্ধান্তে শ্বশুরবাড়িতে এখনও কেউ আপত্তি করেনি। তার শ্বশুর ডাক্তার ছিলেন৷ শাশুড়িও ডাক্তার৷




