এস এম আবুল বাশার, মধুখালী (ফরিদপুর) : ২২ মে বৃস্পতিবার রাত ১১টায় বীরশ্রেষ্ঠ ল্যাঃ নায়েক মুন্সী আঃ রউফের মাতা মোছাঃ মুকিদুন্নেছা (৯২) বার্ধক্যজনীত কারণে কামারখালীস্থ সরকারী বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে……….রাজেউন)। মৃত্যকালে তিনি দুই কন্যা, নাতি নাতনী সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। পিতা মুন্সী মেহেদী হাসান ও মাতা মোছাঃ মুকিদুন্নেছার একমাত্র পুত্র সন্তান আঃ রউফ অল্প বয়সে পিতৃহারা হন। অভাব অনটনের কারণে তিনি লেখাপড়া করতে পারেন নাই। ১৯৬৩ সালের ৮ মে মুন্সী আঃ রউফ তৎকালীন ইপিআর বাহিনীর সৈনিক পদে যোগদান করেন এবং ল্যাঃ নায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের এই বীর সন্তান রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ার চরে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। এলাকায় বীরমাতা মুকিদুন্নেছা ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে শ্রদ্ধাভাজন। তার মৃত্যুতে পার্শ্ববর্তী উপজেলাসমূহ সহ গোটা মধুখালীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সরকার ইতোপূর্বে তার গ্রামের বাড়ি সালামতপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আঃ রউফ স্মৃতি যাদুঘর , কামারখালীতে সরকারী বাসভন এবং বীরমাতার অনুরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বীরশ্রেষ্ঠ আঃ রউফ ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করণ করেছেন। বীরমাতা ব্যাক্তিগত জীবনে খুবই সহজ সরল ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তবে অজ্ঞাত কারণে এই রতœগর্ভা মহীয়সী নারীর দুই কন্যা হাজেরা ও যোহরা মৃত্যুর আগে পর্যন্তু মায়ের সান্নিধ্য থেকে বঞ্ছিত ছিলেন । ২৩ মে সকাল ১১টায় মধুখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে প্রথম এবং দুপুর ২টায় আড়পাড়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শেষে যথাযথ মর্যাদায় সরকারী বাসভবন প্রাঙ্গনে বীরমাতাকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে মরহুমার কফিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন ফরিদপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ আঃ রহমান। এছাড়াও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এর পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। এরপর ফরিদপুর জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান, পুলিশ সুপার মোঃ জামিল হাসান, মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া জামান সহ মধুখালী উপজেলা পরিষদ, ্উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, মধুখালী প্রেসক্লাব, উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সহ অন্যান্য সামাজীক-সাংস্কৃতীক সংগঠনের পক্ষ থেকে বীর মাতার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়।




