ads

শনিবার , ১০ মে ২০১৪ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

পুলিশকে ‘মশার কয়েল’ও কিনে দেয় রাবি প্রশাসন!

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ১০, ২০১৪ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘মশার কয়েল’ও কিনে দেয় রাবি প্রশাসন!

খাদিজা আক্তার ইতু, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করা অন্তত দুই শতাধিত পুলিশ থাকার পরও থেমে নেই খুন, হামলা ও মারধরের ঘটনা। অথচ সেই পুলিশকেই আবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাড়ির তেল, নাস্তা, গোসলের বালতি, বসার চেয়ার-টেবিল এমনকি মশার কয়েলও কিনে দেয়া হয়ে থাকে। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সেই পুলিশের পিছনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিপুল পরিমানে অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের অনেকেই আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তবুদ্ধিও চর্চার জায়গায় পুলিশের অবস্থান নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেক সময় যে গাড়ি দেয়া হয়ে থাকে তার তেল থেকে সব রকমের খরচ বহন করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। ক্যাম্পাসে কোনো হামলা, সংঘর্ষ বা খুনের ঘটনা ঘটলেই পুলিশের পিছনে বিপুল পরিমান অর্থ যোগান দিতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এছাড়াও বিভিন্ন চত্বরে পুলিশদের বসার জন্য চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে তাদের নাস্তার খরচও দিতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়কে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ১১টি হলে যে ৬৬ জন পুলিশ থাকেন তাদের পিছনে হল প্রশাসনেরও একটি মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হয়। পুলিশকে মশার কয়েল থেকে শুরু করে গোসল করার জন্য বালতি-মগও কিনে দিতে হয় তাদের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হল প্রাধ্যক্ষ মো. শেরেজ্জামান বলেন, আমরা হলের পুলিশকে মশার কয়েক কিনে দেই। এছাড়াও তাদের পিছনে বিভিন্ন সময় আমাদের টাকা খরচ করতে হয়। হলে তল্লাশি করতে এলে পুলিশদের নাস্তার খরচও হল প্রশাসনকে বহন করতে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে। গত পরশুদিনও ২৫জন পুলিশকে নাস্তা করাতে হয়েছে আমাদের।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তারিকুল হাসান বলেন, হল প্রশাসন যে পুলিশের পিছনে টাকা খরচ করে তা আমার জানা নেই। যদি করে থাকে তাহলে তা ঠিক নয় বলেও তিনি মনে করেন।
এদিকে পুলিশের পিছনে শিক্ষার্থীদের হল ফান্ডের টাকা খরচ করা নিয়ে প্রায়ই সুপারভাইজারদের সাথে প্রাধ্যক্ষের মত পার্থক্য দেখা দেয়। কয়েক বছরের জন্য হল রাজনৈতিক বিবেচনায় হল প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ হয় বলে তাদের অনেক কাজের বিরুদ্ধেই কথা বলে থাকেন হলের স্থায়ী চাকুরীজীবী সুপারভাইজাররা। হলে পুলিশের পিছনে টাকা খরচে সুপারভাইজাররা বাধা দিলেও তা মানছে প্রাধ্যক্ষরা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, ২০০৯ সাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ খরচ করে আসছে প্রশাসন। তবে এ খাতের জন্য লিখিত আকারে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় উল্লেখ না থাকায় তা প্রকাশ পাচ্ছে না। দিনের বেলায় অবস্থান করা পুলিশদের কোনো অর্থ দেয়া না লাগলেও রাতে ক্যাম্পাসে যেসব পুলিশ থাকেন তাদের জন্য একটি বিপুল অংকের টাকা খরচ করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এমনটাই বলছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনে এক সহকারী প্রক্টর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব খাতে অর্থ ব্যয় সিন্ডিকেট থেকে নির্ধারিত হলেও পুলিশের ব্যাপারে সেখানে কোনো প্রস্তাবনা আনা হয়নি। এমনটাই বলছিলেন সিন্ডিকেটের সাবেক এক সদস্য।
পুলিশের পিছনে টাকা খরচের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের পিছনে আসলে কতো টাকা খরচ করা হয় তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বলতে পারবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তারিকুল হাসান বলেন, আমার জানা মতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করা পুলিশদের পিছনে কোনো অর্থ খরচ করা হয় না। যদি হয়ে থাকে এ বিষয়ে হিসাব শাখা বলতে পারবে। আমার হাত দিয়ে কোনো টাকা খরচ করার সুযোগ নেই।
যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সায়েন উদ্দিন আহমেদ বলেন, আসলে পুলিশের পিছনে ওভাবে কোনো অর্থ খরচ করা হয় না। তবে তাদের বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা ও অতিরিক্ত কোনো প্রয়োজনে হয়তো কিছু টাকা খরচ করা হয়ে থাকে। তবে তা কতো সেই নির্দিষ্ট পরিমানটা এখনি তোমায় বলা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে পুলিশের পিছনে অর্থ ব্যয় যাই হোক না কেনো ক্যাম্পাসে তাদের অবস্থান থাকার পরেও থামছে না চোরা-গোপ্তা হামলা, খুন ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে গত এক মাসেই রাবিতে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। হলের নিজ কক্ষে খুন হয়েছেন ছাত্রলীগের এক নেতা। দিনের বেলা হামলার শিকার হয়েছেন তিনজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে ছুড়িকাঘাত করেছে এক স্থানীয় যুবক। এছাড়াও হলে শিবিরের এক নেতাসহ মারধরের শিকার হয়েছেন অন্তত ৬ শিক্ষার্থী। এছাড়াও একাধিকবার ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝড়া ও তাদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ এসব কাজে এগিয়ে আসেনি। তাই ক্যাম্পাসে তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে ও হলে অবস্থান করা পুলিশগুলো নিরাপত্তার জন্য কোনো কাজে আসে না। তারা শুধু বসে বসে মোবাইলে কথা বলে আর ছবি দেখে। তাদের দেখে মনে এ জন্যই বুঝি তাদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে পুলিশ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও সেই থেকে ক্যাম্পাস থেকে আর তাদের সরানো হয়নি। বর্তমানে রাবির ১৭টি আবাসিক হলের ১১টিতে ৬৬জন পুলিশ অবস্থান করছে। এদিকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, কাজলা গেট, বিনোদপুর গেট, চারুকলা গেট বদ্ধভূমি ও বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন গেটে ৭ জন করে মোট ৪২ জন পুলিশ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসাভবনের সামনে ও প্রশাসন ভবন-১ এ ৬ জন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংগঠনের টেন্টগুলোতে সর্বদা ৭-৮ জন করে পুলিশ রাখা হয়। এছাড়াও কাজলা ও বিনোপদপুরে ক্যাম্পাসের ভিতরে রয়েছে পুলিশের দুটি ফাঁড়ি থানা। সেখানে অন্তত ৩০ জন করে পুলিশ অবস্থান করে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য এতো পরিমানে পুলিশ রাখলেও কার্যত তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বারবার।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ক্যাম্পাসে পুলিশ থাকলেও তারা আসলে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনের নেতারা যদি সমঝোতায় না আসেন তাহলে দিন দিন এই খুন ও হামলা বাড়তেই থাকবে। তাই তিনি সবাইকে এক হয়ে কাজ করার কথা বলেন।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!