ads

বৃহস্পতিবার , ২৪ এপ্রিল ২০১৪ | ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

‘ঝগড়া নয় শান্তি চাই’ শ্লোগান নিয়ে নিলক্ষারচরে হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকদের শান্তি মিছিল

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
এপ্রিল ২৪, ২০১৪ ৮:০৪ অপরাহ্ণ
‘ঝগড়া নয় শান্তি চাই’ শ্লোগান নিয়ে নিলক্ষারচরে হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকদের শান্তি মিছিল

এম,লুত্ফর রহমান, নরসিংদী : রায়পুরার নিলক্ষারচরে অব্যাহত গ্রাম্য দাঙ্গা দমনে প্রশাসনিক ব্যর্থতার মুখে গতকাল বৃহস্পতিবার সেখানে স্বতঃস্ফুর্ত শান্তি মিছিল হয়েছে। সেখানকার দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও শান্তিপ্রিয় জনগন স্বপ্রনোদিত হয়ে এই মিছিল বের করে। মিছিলের শ্লোগান ছিল ঝগড়া নয় শান্তি চাই, জানমালের নিরাপত্তা চাই, লেখা পড়া করতে চাই, বাঁচার মত বাঁচতে চাই।

Shamol Bangla Ads

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নিলক্ষা আবুল হাসেম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শান্তি মিছিলটি সংগঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকরা শান্তি মিছিল বের করলে স্থানীয় শান্তিপ্রিয় জনগন মিছিলে যোগদেয়। মিছিলটি বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে সব্দর আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে মিলিত হয়। সেখানকার ছাত্র-শিক্ষক অভিভাবকরাও মিছিলে যোগদেয়। এখানে হাজার হাজার মিছিলকারী নিলক্ষারচরে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবীতে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে সেখানে এক সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তৃতা করেন, নিলক্ষা আবুল হাসেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ মালেক, সব্দর আলী খাঁন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার জসিম উদ্দিন, নিলক্ষা আবুল হাসেম উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক শফিউল আলম বাচ্চু, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ শাহাবুদ্দিন রেনু, সব্দর আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ সামসুল হক, বিএসসি শিক্ষক মোঃ বিল্লাল হোসেনসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও স্কুলের শিক্ষাথীরা।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ বক্তাগন বলেন, নিলক্ষারচর মেঘনা তীরবর্তী একটি মনোরম চর এলাকা। এখানে গ্রাম্য মোড়লীপনাকে কেন্দ্র করে সৃস্ট অব্যাহত টেটাযুদ্ধ, রক্তপাত, মামলা, পাল্টা মামলা ইত্যাদির কারনে নিলক্ষারচর একটি বিরানভূমি এলাকায় পরিনত হয়েছে। এখানকার মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। মামলা হামলা থেকে স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকরাও রেহাই পাচ্ছে না। এ অবস্থায় নিলক্ষা আবু হাসেম উচ্চ বিদ্যালয় ও শব্দআলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে গেছে। এই দুটি স্কুলের ছাত্রদেরকেও মামলার আসামী করা হয়েছে। তারা বলেন, এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল বিবাদ ভূলে মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার বাধা দুর করার জন্য টেটাযুদ্ধের মত মধ্যযুগীয় বর্বরতা বন্ধ করে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। বক্তারা অবিলম্বে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টিকারী গ্রাম্য মোড়ল ও লাঠিয়াল সরদারদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে গ্রামের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গ্রাম্য মোড়ল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান।
বলাবাহুল্য যে, ২০১২ সালে ২১ অক্টোবর একই চরের গোপীনাথপুর গ্রামের জজ মিয়া ও রহিম গ্রæপের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গ্রামে এক শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশ্য দরবারে হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় টেটা যুদ্ধ। এই টেটা যুদ্ধ ক্রমান্বয়ে গ্রাম্য দাঙ্গার রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে পার্শবর্তী হরিপুর, দড়িগাঁও, বীরগাঁও ও আমিরাবাদ গ্রামে। এক পর্যায়ে রহিমের পক্ষে যোগ দেয় হরিপুর গ্রামের সুমেদ আলী ও জজ মিয়ার পক্ষে দড়িগঁাঁও গ্রামের সহিদ মেম্বার। এতে করে গত দুই বছরে বিক্ষিপ্ত কয়েক দফা সংঘর্ষে দুই পক্ষের টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ৪ ব্যক্তি নিহত হয়। এ পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ হয়েছে প্রায় ২৫টি বসত ঘরে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকারও উপরে সম্পদ। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে অনেক পরিবার।
বিরোধ মিমাংসার জন্য ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজি উদ্দিনের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দেয়। দীর্ঘ চার মাস বিরতির পর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উল্লেখিত গ্রæপের মাঝে পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। চলতি বছর গত ৩০ মার্চ সহিদ মিয়ার সমর্থক দড়িগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে জুসেদ মিয়া মাঠে কাজ করতে গেলে সুমেদ আলীর সমর্থক জাকির হোসেন তাঁর দলবল নিয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনার জের ধরে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল বেলা এগারটার দিকে দড়িগাও ও হরিপুর গ্রামের সীমানা এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকরা টেঁটাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৭ এপ্রিল সুমেদ আলীর লোকজন সহিদ মিয়ার এক সমর্থকের একটি গরু এবং ফসলী জমি থেকে মরিচ লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে আবার সংঘর্ষের সূচনা হয়। গত ৩০ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত গোপিনাথপুর দড়িগাও গ্রামে ৯টি ছোট-বড় টেটাযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এতে রায়পুরা থানায় পাল্টা পাল্টি গোটা দশেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামী করা হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে। কিন্তু পুলিশ দীর্ঘ ২৪ দিনে ১ জন লাঠিয়াল সর্দারকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। যার ফলে একের পর এক টেটাযুদ্ধ ঘটেই চলছে। পুলিশ এ টেটাযুদ্ধ নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ হবার পর গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রামের শান্তি প্রিয় মানুষ বাধ্য হয়ে “ঝগড়া নয় শান্তি চাই” শ্লোগান নিয়ে মিছিল বের করে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!