চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : আধুনিক যন্ত্রপাতি, লোহার দাম বৃদ্ধি আর নানা প্রতিকুলতায় হারিয়ে যাচ্ছে কামার শিল্প। এক সময় চিতলমারী উপজেলায় প্রায় পঞ্চাশের অধিক দোকান থাকলেও বর্তমানে তার সংখ্যা মাত্র ৭-১০টি। অনেক দুর থেকে কামারের ঠান্-ঠুন্ আওয়াজ মুখরিত হলেও এখন আর তা শোনা যায় না। যারা এই ব্যবসাকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন দেখত তাদের চোঁখে মুখে এখন শুধু হতাশা। এ পেশা ছেড়ে অনেকে বেছে নিয়েছে অন্য ভিন্ন পেশা। বছরে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে কামারদের কর্মচাঞ্চল্যে বাড়ে। বছরের বেশিরভাগ সময় অলসে কাটে। শুধুমাত্র ধান কাটা ও ঈদ-উল-আযহার সময় এই পেশার লোকদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। তাই রাত-দিন ঠান্-ঠুন্ আওয়াজ মুখরিত উপজেলার কামারের দোকান। উপজেলার কালিগঞ্জ, খাসেরহাট, বাখরগঞ্জ, চিতলমারী সদর বাজার, বাবুগঞ্জ, নালুয়া, হিজলা, বড়বাড়িয়া, শৈলদাহ, বারাশিয়া, মছন্দপুর বাজারের দোকান গুলোতেও ভিড় দেখা। ধান কাটার কাস্তে এবং ঈদের সময় মাংশ কাটার জন্য দা, চাপাতি, ছুরি ও বটিসহ বিভিন্ন প্রকার যন্ত্র মেরামত ও বানানোর জন্য গ্রাম-গঞ্জের লোকজন আসে। চিতলমারী বাজারের কামার অমল কর্মকার, কিলা কর্মকার, গৌরাঙ্গ কর্মকার জানান, সারা বছরই তাদের অলস সময় কাটে। একমাত্র ধান কাটা ও কুরবানীর ঈদে তাদের কর্মচাঞ্চল্যে বেড়ে যায়। তাই অনেকে বাপ দাদার এ পেশা ছেড়ে অন্য ভিন্ন পেশাকে জীবিকা নির্বাহের জন্য বেছে নিয়েছে। এই শিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।




