শ্যামলবাংলা ডেস্ক : উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা আর উত্তেজনার মধ্যেই পঞ্চম ও শেষ ধাপের ৭৩ উপজেলার ভোটগ্রহণ চলছে। ৩১ মার্চ সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ওই ভোট গ্রহণ।
ভোটের আগেই প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের হুমকি-ধমকিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সহিংসতার আশঙ্কা করছে কমিশন। দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে সরকার সমর্থিত প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থী, এজেন্ট ও ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগে অর্ধশত আবেদন জমা পড়েছে ইসিতে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক সহিংসতার জন্য দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর বেপরোয়া আচরণের কারণে সহিংসতা বাড়ছে। তবে তিনি বলেন, নির্বাচনী অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। নির্বাচনের পরেও সহিংসতাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
পঞ্চম ধাপে ৭৪টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করলেও আজ সোমবার ভোট হচ্ছে ৭৩টি উপজেলায়। টাঙ্গাইল-৮ আসনে উপনির্বাচনের কারণে বাসাইল উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাচন আদালতের রায়ের কারণে স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে তৃতীয় ধাপে স্থগিত গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচনের ভোট হচ্ছে একই দিনে। কমিশন ঘোষিত ৫ ধাপের তফসিলের শেষ নির্বাচন আজ। তবে ষষ্ঠ ধাপে আগামী ৩ মে আরও ২১ উপজেলায় নির্বাচন সম্পন্নের পরিকল্পনা করেছে ইসি।
সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে মাঠে টহল শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড। নির্বাচনের আগে-পরে মিলিয়ে ৫ দিন তারা মাঠে থাকবে। প্রতি উপজেলায় এক প্লাটুন এবং বড় উপজেলায় দেড় প্লাটুন সেনা সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুই থেকে তিনটি গাড়ি টহলে থাকবে। সঙ্গে সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসার ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোর্স হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছে। প্রতি কেন্দ্রে একজন পুলিশ (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার একজন (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার ১০ জন (মহিলা ৪, পুরুষ ৬ জন), আনসার ১ জন (লাঠিসহ) ও গ্রাম পুলিশ ১ জন আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ২৯৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭৩ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।




