সরদার ওয়াহিদা পারভীন রিভা, ডিমলা(নীলফামারী): আমার ছবি তুলে কি করবেন? ছবি পেপারে ছাপলে সরকার কিছু দিবে নাকি? মঙ্গলবার সন্ধায় কথা গুলো বলে, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দক্ষিন সোনাখুলী চর কুটিপাড়া বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আলামিন (৮)। যে সময়ে তার বাড়ীতে বই পড়ার কথা সে সময়ে শিশু আলামিন ছোনের বোঝা কাঁধে নিয়ে ৪ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে পৌছে উপজেলার চাপানী হাটে। আলামিন জানায়, এ ছোন বেঁচার টাকা দিয়ে চাল কিনে বাড়ীতে যাবে আর ছোন বেঁচতে না পাড়লে তার ৫ সদসের পরিবারকে আগামীকাল উপোষে থাকতে হবে। সে দক্ষিন সোনালী চরের শুকুর আলী ছেলে। তার বাবা অন্যের বাড়ীতে বাঁশের কাজ করে কিন্তু এলাকায় বর্তমানে তেমন কাজ-কর্ম না থাকায় তার বাবাকে মাঝে-মধ্যেই বেকার দিনকাটাতে হয়। গত পরশু দিন হাটে ফড়েয়া(পাইকার) না আসায় ছোন বেঁচতে পারেনি বলে গতকাল তাদেরকে চালভাজা খেয়ে দিনটি পাড় করতে হয়। সে চালও তাদের ঘরে ছিলো না। মা রহিমা বেগম অন্যের বাড়ী থেকে আধাসের চাল ধার করে নিয়েছিলো। আলামিনের সাথে হাটে ছোন বেঁচতে আসা তার বড় ভাই রবিউল ইসলামের (১৪) সাথে কথা বলে জানাযায়, তিস্তাপাড় ও চরাঞ্চলের বিশেষ করে ভূমিহীন মানুষ গুলোকে প্রতিদিনই খুধার সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। অভাব-অনাটন আর খুধা যাদের নিত্যদিনের সাথী তাদের আবার লেখা! এমনই অবস্থায় চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার পরে লেখা-পড়া বন্ধ করে দিয়ে রবিউলকে প্রতিদিনই ছুটতে হয় রোজগারের তাগিদে। এত কিছুর পরেও অভাব নামে দানবটি প্রতিনিয়তই এ হতদরিদ্র পরিবারটির মত আরো অসংখ্য পরিবারকে কুড়ে-কুড়ে খেয়েই চলছে। স্থানীয়দের মতে বিরোধী দলের দীর্ঘ মেয়াদী অবরোধ ও হরতালের প্রভাব এসে পড়েছে চরাঞ্চলের অভাবী মানুষ গুলো ওপরে। ফলে চরের মানুষের জীবন কাটছে বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে। উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, এলাকায় কাজ না থাকলে অনেকেই কাজের সন্ধানে দক্ষিনাঞ্চলে যায় কিন্তু অবরোধ ও হরতালের সময়টাতে অনেকেই কাজের জন্য বাইরে যেতে পারেনি। এ কারণে অনেককেই ধার-দেনা করে খেতে হয়েছে। তিনি দাবী করেন, আমন ধান না ওঠা পর্যন্ত সরকারী ভাবে চরাঞ্চলের মানুষ গুলোর জন্য কাজ ও খাদ্যের জোগান দেওয়া জরুরী প্রয়োজন।




