মনির হোসেন পাটওয়ারী, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) : রামগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ও ফসলি জমিতে স্থাপিত ১৫টি ইটভাটায় সরকারী বিধি লঙ্গন করে প্রশাসনের কতিথ অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আবাদি জমিনের টপ সয়েল কাটার পাশাপাশি বনায়ন উজাড় করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ, তৈলের গাদ, টায়ার ও ফ্যালাস্টিক, বোতমের গুড়া, রাসায়নিক র্বজ্য পোড়ানোর মহোৎসব চলছে। এতে একদিকে খাদ্য শষ্য উৎপাদনে মারাত্মক ব্যাঘাত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। রামগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ও ফসলি জমিনে অপরিকল্পিত ভাবে ইটভাটা স্থাপিত হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার উত্তর শৈরশৈই গ্রামের ফসলি জমিতে এমএমবি ব্রিকর্স, সোনাপুর চিতোষী রোড মডেল কলেজ সংগ্নন মেসার্স পাটওয়ারী (এমপিবি) ব্রিকর্স, আব্বাস ব্রিকর্স এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, মেঘনা ব্রিকর্স এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, সুধারাম এবিএম ব্রিকর্স, আকারতমা এসবিএম ব্রিকর্স, এফবিএম বিক্স, কাটাখালী এইচটিসি ব্রিকর্স,ভাট্রা রামসিং পুর এমএসবি, লক্ষীধরপাড়া মাতালেব ব্রিকর্স, হাজীরপাড়া এমডিএ ব্রিকর্স, দেহলার মদিনা ব্রিকর্স, জে বি এম ব্রিকর্স,আজিমপুর পাটওয়ারী ব্রিকর্স, সহ কয়েকটি ইটভাটায় মালিকেরা সরকারী বিধি লঙ্গন করে ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ, টায়ার, গাদ, বোতামের গুড়া, রাসায়নিক র্বজ্য ও ফ্যালাস্টিক দিয়ে ইট পোড়াছে । কয়েকটি ভাটায় ১০থেকে ১২ বছরের শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূন্য কাজ করাচ্ছে। প্রতিটি ইটভাটা লক্ষ লক্ষ ঘনফুট টপ সয়েলের স্তুব। যা বিভিন্ন আবাদি জমিন থেকে বড় চাকার ট্রলি দিয়ে সংগ্রহ করে। বড় চাকার ট্রলি দিয়ে টপ সয়েল বহন করা পাকা রাস্তাগুলো প্রায় স্থানে বিশাল গর্ত হয়ে যাত্রী বাহি যান চলাচল তো দুরের কথা মোটর সাইকেল পর্যন্ত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ইটভাটার পাশে বসবাস কারীরা সাংবাদিকদের জানান, ইট পোড়ানোর সময় র্দুগন্ধ ও বাতাসে ধূলো কণা ছড়ানোর ফলে বিভিন্ন রোগে লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে । হাজীরপাড়া এমডিএ ব্রিকর্স ফিল্ডের ঝুকিপুর্ন কাজে কর্মরত শিশু কাসেম (১১), মাঈন উদ্দিন (১২) বলেন,আমাদের কয়েকজনকে মাইজদী থেকে এনে নজর বন্ধি করে সপ্তাহে ৪০ টাকা মজুরী দিয়ে কাজ করাচ্ছে। উত্তর শৈরশৈই ইটভাটার পরিচালক খোরশেদ আলম,আকারতমার এফবিএম ও এমবিএম ভাটার মালিক আঃ কুদ্দুস,হাজীর পাড়ার এমডিএ ভাটার ম্যানেজার বাবু,কাটাখালী এইচটিসি ভাটার মালিক মমিন উল্যাহ বলেন,গ্রামাঞ্জলে সরকারী প্রজ্ঞাপন মেনে কয়লা দিয়ে ইট পোঁড়ানো সম্ভাব নয়।
নিয়ম না মেনে ইটেরভাটা তৈরি হওয়ায় আবাদি জমিগুলো নষ্ট হচ্ছে। ইট তৈরির জন্য অসচেতন কৃষকের কাছ থেকে কৃষি জমির ১/২ফুট মাটি কেটে নেওয়া হয়। জমির টপসয়েল কেটে নেওয়া ফসলি জমির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়। ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রন আইন ১৯৮৯ ও ২০০১ সালের ১৭নং অনুচ্ছেদের ৪ ও ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, আবাদি জমিতে কোনো ইটভাটা তৈরি করা যাবে না ও ১২০ ফুট চিমনি ব্যবহার করতে হবে। কাঠপোড়ানো যাবে না। এখানকার ইটভাটা গুলোতে এ আইন মানা হচ্ছে না। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ইটভাটায় কাঠপোড়ানোর বিষয়ে মোবাইল কোটের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




