শ্যামলবাংলা ডেস্ক : গাইবান্ধায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ২৫ জানুয়ারী শনিবার বিকেলে গাইবান্ধার শাহ আবদুল হামিদ স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি ওই ঘোষণা দেন।
এসময় তিনি বলেন, গাইবান্ধায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এখানে আমরা শিল্প-কারখানা গড়ে তুলব। এতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেকারত্ব কমবে এবং দারিদ্র্য হ্রাস পাবে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই দেশে কোন মানুষ ঘর ছাড়া থাকবে না। সবার জন্য অন্তত একটি করে টিনের ঘর হলেও করে দেব। এই দেশে কেউ দরিদ্র থাকবে না। এই দেশের একটা মানুষও না খেয়ে থাকবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়, শান্তিতে বাঁচতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এখানে কোনরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তিনি ভোট বন্ধ করার অনেক চেষ্টা চালিয়েছেন, কিন্তু তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বাঙালি জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। আর এবারের ইশতেহারের আমরা ঘোষণা দিয়েছি, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। বিশ্ব সভায় বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করব।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সত্তে¡ও সরকার পহেলা জানুয়ারি ৩০ কোটি বই বিনামূল্যে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছে। এই দেশের ছেলেমেয়েরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে গাইবান্ধা পৌঁছান। পরে তিনি গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় গাইবান্ধায় নিহত ৩ পরিবারসহ ৭২টি পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্থ ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাকে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন। এছাড়া গাইবান্ধায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ব্রিজ, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ ১৮টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।




