মোঃ গোলাম রব্বানী, পাইকগাছা (খুলনা) : বিভাগীয় শহর খুলনার পার্শ্ব দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী ময়ূর নদী অবৈধ ভাবে দখল করছে কতিপয় ভূমি দস্যুরা। নদীর দুই তীর ভরাট করে বসত ঘর ও রাস্তাঘাট তৈরীর ফলে নদী তার স্বাভাবিক গতি পথ হারিয়েছে। হারিয়েছে নদীর গভীরতা, হারিয়েছে তার আসল মানচিত্র।

নদীর দুই তীরে রং বে-রংয়ের কাচা-পাকা গড়ে ওঠা বসতঘর দেখেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। কতিপয় প্লট ব্যবসায়ী নদীর তীর ভরাট করার কাজে মাতোয়ারা। ময়ূর নদী দিয়ে খুলনার বানরগাতী, বাগমারা, গোবরচাকা গলামারী, সোনডাঙ্গা এলাকার ময়লা আর্বজনা নিষ্কাশনের একমাত্র অবলম্বন। অবৈধ দখলের ফলে বৃষ্টি মৌসুমীতে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা সহ পচা নর্দমার দুর্গন্ধে পরিবেশ ভারসাম্য হুমকীর মূখে পড়ে। বৃষ্টি মৌসুমীতে খুলনা শহর সহ ডুবি, আলুতলা, কৃষ্ণনগর, হরিণটানা, দেনারাবাদ মৌজার হাজার হাজার একর জমির পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। ভূমি দস্যুদের দাপটে ময়ূর নদী সরকারের বে-দখল হওয়ার আশংখা দেখা দিয়েছে।
এলাকার সমাজ সেবক আব্দুলাহ আল মামুন সহ জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন এস-৫৪ ও ১/১ খতিয়ানের ২০ ও ৩২ দাগে তাদের ক্রয়কৃত জমির সীমানা অতিক্রম করে ময়ূর নদী দখল করে বসতঘর ও রাস্তা নির্মান করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিষেধ করলেও কোন প্রকার কর্ণপাত না করে হুমকী প্রদান করছে।
অভিযোগে আরো বলেন, ময়ূর নদীর দুই তীর দখল করে অনেক প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নির্বিঘে ফায়দা লুটে যাচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতাদের চাপের মূখে নিরব ভূমিকায় আছেন। ময়ূর নদী অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রকল্পের কথা বলে অনেক এন, জি, ও প্রতিষ্ঠান ফায়দা লুটেছে অথচ ময়ূর নদী সংস্কার ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের বিন্দুমাত্র পদক্ষেপ বাস্তবতায় দেখা যায়নি।
ময়ূর নদী অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এলাকায় জলাবদ্ধতা সহ পরিবেশের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসক সহ সরকার বাহাদুরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




