এম.আবদুল্লাহ আনসারী. পেকুয়া (কক্সবাজার) : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পর নির্বাচন কমিশন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী পেকুয়া উপজেলায় ২৭ ফেব্রুয়ারী ভোট গ্রহণ করা হবে।

পেকুয়া নির্বাচন কমিশন অফিস সুত্রে জানা গেছে ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন ফরম এসে পৌছেছে। ১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ফরম নেয়া যাবে, ৪ ফেব্রুয়ারী যাচাই বাচাই হবে, ১১ ফেব্রুয়ারী প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ ফরম নেয়নি। পেকুয়া উপজেলার ইতিহাসে দ্বিতীয় নির্বাচনের তপসিল ঘোষনার পর পর পেকুয়ায় রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়ত ও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর নেতাকর্মীর পাশা পাশি স্বতন্ত্র পরিচয়ে অনেকেই পুরো পেকুয়ায় তাদের প্রচারণা শুরু করেছে। বি.এন.পি ও আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন নিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করলেও জামায়ত ও জাতীয় পার্টি ইতিমধ্যে দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করে নির্বাচনী মাঠে ছেড়ে দিয়েছে। বি.এন.পি জামায়াত ১৯ দলীয় জোট বদ্ধ ভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা ও সংসদ নির্বাচনের ঘোষনা থাকলেও স্ব স্ব দলের নেতারা আলাদা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে। বি.এন.পি থেকে আগামী উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজুর পাশা পাশি উপজেলা বি.এন.পির সভাপতি ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহর নাম শুনা যাচ্ছে। তবে দলীয় সূত্রে জানাগেছে বি.এন.পির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন মহাসচিব ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সিদ্ধান্তে দু জনের যে কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে আপাতত এটি নিশ্চিত। বি.এন.পি সমর্থক গোষ্টী মনেকরেন অতীব ক্লিন ইমেজের ও তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহনীয় বর্তমান উপজেলা পরিষদের ও পেকুয়া উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনে প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা প্রয়াত ছাদেকুর রহমান ওয়ারেচীকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও পরাজিত করে রাজুর চমক লাগানো বিজয় এখনও তাদের মাঝে প্রভাব বিস্তার করছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের উপজেলা বি.এন.পির হাল ধরে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধাসিক্ত পেকুয়া সদরের চেয়ারম্যান দক্ষ সংগঠন বাহাদুর শাহ প্রার্থী হলেও তাদের ভয়ের কিছুই নেই। আওয়ামীলীগের জন্যে পেকুয়ায় ভোটের ফলাফল সুখকর না থাকলেও তারা এবার একক প্রার্থী দিয়ে ও কোন প্রকার বিদ্রোহী প্রার্থীকে মাঠে না রেখেই নির্বাচনী ফলা তাদের ঘরে নিতে বদ্ধ পরিকর। তারাও দুএকদিনের মধ্যে প্রার্থী প্রত্যাশীদের সাথে সমন্বয় করে এক জনকে মনোনয়ন দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানাগেছে। বর্তমানে আওয়ামীলীগের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে এখনো ৬ জন প্রার্থী তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সি.সহ সভাপতি এটি.এম বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এস.এম গিয়াসুদ্দিন, সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, শিলখালী আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা ছাদেকুর রহমান ওয়ারেচীর ছেলে ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী নিজেদের প্রার্থীতা পরিচয়ে পত্র পত্রিকায় প্রচারণার পাশা পাশি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পদে গত বারের নির্বাচনে অংশ নেয়া শরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক ছাত্র নেতা মাও.নুরুজ্জমান নিজেদের প্রার্থী ঘোষনা করে প্রচারণা গণ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি থেকেও প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক এস.এম.মাহবুব ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা সদস্য সচিব সাংবাদিক দিদারুল করিমকে প্রার্থী ঘোষনা করেছে। এছাড়াও মগনামার আরিফুল করিম চৌধুরী, পেকুয়া সদরের হামিদুর হক চৌধুরী পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজেদের প্রার্থী ঘোষনা করে নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে গত বারের ভাইস চেয়ারম্যান ইদ্রিস বাদশা এবার নিজের জয় ধারাবাহিক রাখতে বি.এন.পি অধ্যূষিত এলাকা হওয়ায় বি.এন.পি থেকেই মনোনয়ন ও সমর্থন চাচ্ছেন। এছাড়াও বি.এন.পি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মুজিবুল হক চৌধুরী, তরুণ ছাত্র নেতা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরান জাদিদ মুকুট, পেকুয়া সদর পশ্চিম জোন বি.এন.পির সভাপতি ও পেকুয়া সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ আজাদ নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে টইটং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ৫ বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য কবির আহমদ, পেকুয়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন বি.এস.সি, গতবারের পরাজিত আওয়ামীলীগ নেতা মাষ্টার নুর মোহাম্মদ সহ অনেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী প্রচারনায় না থাকলেও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে যে কেউ ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতবারের নিকটতম প্রতিদ্বন্দী তরুণ প্রার্থী ও প্রখ্যাত সুফি সাধক লস্কর শাহর আওলাদ নুরুল আজিমও এখনো পর্যন্ত স্বতন্ত্র পরিচয়ে নিজের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া চ্ট্টগ্রামস্থ পেকুয়া উপজেলা ছাত্র ও যুব কল্যাণ সংস্থার সাবেক সভাপতি ও কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরামের সি.সহ সভাপতি বারবাকিয়া বেলাল হোছাইন, পেকুয়া জমিদার বাড়ীর নাজমুল হক চৌধুরী পুতুমিয়া প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জোরালো ভাবে এখনো কেউ মাঠে নেমে প্রচারনা না চালালেও দলীয় মনোনয়নের জন্যে চেয়ে থেকেছেন। বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নানজীন ফারজানা লাভলী নিজের পদটি ধরে রাখতে আওয়ামীলীগ সমর্থিত ব্যক্তির স্ত্রী হয়েও এবার বি.এন.পির সমর্থন খুজে বেড়াচ্ছেন। বি.এন.পি এখনো পর্যন্ত উপজেলা বি.এন.পির সভানেত্রী আন্দোলন সংগ্রামের প্রিয়মুখ হিসেবে সাবিনা ইয়াছমিন ঝিনুকে মনোনয়ন দেয়ার চিন্তা করছে। ঝিনুও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চুড়ান্ত দলীয় সিদ্ধান্তের জন্যে অপেক্ষায় থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গত বারের নির্বাচনে অংশ নেয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী উম্মেকুলছুম মিনু, গত নির্বাচনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামীলীগ নেতা মাশেক আহমেদের স্ত্রী কানিছ ফাতেমা মাশেক নিরবে সরবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।




