তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল সংর্ঘষের ঘটনায় ২শ’৭ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৮ জানুয়ারী ২০১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষের স্নাতক সম্মান ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ছিল। বিকেল ৩টা থেকে ৪টায় ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আলী আশ্রাফের পিএস রেজাউল করিমকে ছাত্রলীগ কর্মীরা অজ্ঞাত কারণে একটি রুমে তালা বন্ধ করে রাখে। এর জের ধরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রায় ২ শতাধিক ছাত্রলীগ কর্মীরা একটি লাঠি মিছিল ছাত্রদলের মিছিলের মুখোমুখি হলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে মারমুখী হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ সদস্য মামুন ও শরীফুল গুরুতর আহত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগের একজন কর্মী আহত হওয়ায় বিকেল ৫টায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে হাতে দা, লাঠি, চাপাতি, লোহার রড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ঘরে ভাংচুর চালায়। এলাকাবাসীর সাথে ছাত্রলীগ সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে ছাত্রলীগকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জের ব্যবহারিত সরকারি গাড়ি ও লাইনের ২টি সরকারি ট্রাক নং-কুমিল্লা-ম-৬১১২, কুমিল্লা-অ-১১-০০০৪ ভাংচুর করে। পুলিশও মারমুখী হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে মোট ৯৬ রাউন্ড কার্তুজ ও শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ। একই দিন রাত ১০টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় এস.আই খাদেমুল বাহার বাদী হয়ে কুবি ছাত্রলীগ আহ্বায়ক কমিটির ৭শতাধিক নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৫০-২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই জাহাঙ্গীর আলমকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কুবি ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুম বলেন, ছাত্রলীগের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রদলের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে এ অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।




