শ্যামলবাংলা ডেস্ক : দৈনিক ইনকিলাবসহ বন্ধ সকল গণমাধ্যম খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৮ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ১৭ জানুয়ারী শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ওই দাবি জানান। বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মো. আব্দুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে খালেদা জিয়া ‘দৈনিক ইনকিলাব’ ভবনে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশী হানা, পত্রিকাটির প্রকাশনা বিঘিœত করতে সিলগালা করা ও ৩ জন সাংবাদিককে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে জনগণের সকল অধিকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় হরণ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সভ্য সমাজে স্বাধীন মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে নির্ভিকভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘দৈনিক আমার দেশ’ বন্ধ এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে অন্তরীণ রেখেছে। এছাড়া বেসরকারি টিভি চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিরোধী দল ও মত দমনে এ ধরনের অন্যায় ও ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের জন্য কখনোই শুভ নয়।
তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে ইনকিলাবসহ সকল বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেওয়া এবং গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিককে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
উলেখ্য, রাজধানীর আর.কে মিশন রোডে অবস্থিত দৈনিক ইনকিলাব কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ছাপাখানায় তালা ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চালানো ওই অভিযানে ৪ জনকে আটক করা হলেও পরে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারই দৈনিক ইনকিলাবের প্রথম পাতায় ‘সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর অপারেশনে ভারতীয় বাহিনীর সহায়তা!’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই খবরে পুলিশ বাদী হয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে (আইসিটি অ্যাক্ট) ওয়ারী থানায় একটি মামলা করে। মামলায় দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, পত্রিকার প্রকাশক, প্রধান বার্তা সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে আসামি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশে ভারতীয় বাহিনীর উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট উলেখ করে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সবাইকে অনুরোধ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।




