এম এ ছালাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : নওগাঁর মহাদেবপুরে খেজুর গাছের সুস্বাদু রসের গন্ধে সুবাসিত হয়ে উঠেছে গ্রামের অলি-গলি। শীতের সকালে খেজুরের রসে ভিজিয়ে মুড়ি না খেলে নিভৃত পল্লীর মানুষদের যেন দিনটাই শুরু হয় না ভালভাবে। শীতের সকালে পল্লীগ্রামে রস-মুড়ি খেয়ে তবেই ক্ষেত-খামারে ছড়িয়ে পড়ার রেওয়াজ আছে সেই আদিকাল থেকেই। শীতের সকাল মানেই অন্যরকম এক আনন্দ। বাড়ির উঠোনে সূর্যালোকে পরিবারের সব বয়সী সদস্য এক সাথে বসে বেশ মজা করে রস-মুড়ি খাওয়ার মধ্যে সকলেই যেন খুঁজে পায় দিন শুরুর প্রেরণা। সময় বয়ে চলার সাথে সাথে রস-মুড়ি খাওয়ার সকালের সেই ধুম বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, পল্লীগ্রামে আগের চেয়ে খেজুরের গাছ কমে গেছে অস্বাভাবিক হারে। যে হারে গাছ কাটা হয়েছে সে হারে রোপন করা হয়নি। আবার নিপাহ ভাইরাস আতঙ্কেও মানুষজন খেজুরের রস খাওয়া কমে দিয়েছেন আবার কেউ ছেড়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন রোগব্যধি বিষয়ে সচেতনতা অর্জনের পর খেজুর রস কার্লচারের মতন গ্রামের ঐতিহ্যবাহী অনেক কার্লচারই ক্রমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতেগোনা কিছু ব্যবসায়ী এখনও কাকডাকা ভোর থেকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করছেন খেজুর গাছের রস। তারা আগের দিন বিকেলে খেজুর গাছে পাতিল বেঁধে রাখেন। সমস্ত রাতে খেজুর গাছ ভেদে প্রতি পাতিলে দেড় থেকে আড়াই কেজি রস জমা হয়। সেই রস ভালভাবে ছাকনির পর তারা কাঁধে ভার বয়ে নিয়ে গ্রামের মেঠোপথ ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিদরে। এভাবে একজন গাছী বা ব্যবসায়ী তাদের সংগ্রহ অনুযায়ী ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকার খেজুর রস বিক্রি করে থাকেন। পুরো শীতের মৌসুমে উপজেলার অর্ধ শতাধিক গাছী বা ব্যবসায়ীর সংসারই চলে এভাবে খেজুর রস বিক্রির টাকায়।




