ads

বৃহস্পতিবার , ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৩ ৯:১২ অপরাহ্ণ

9রুপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : একের পর এক প্রতারণা করে অবশেষে পুলিশের হাতে আটক হলেন দুই প্রতারক। সঙ্গবদ্ধ এ প্রতারক চক্র রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অলৌকিক ক্ষমতার বলে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে নিঃস্ব করছেন সাধারণ লোকজনকে। প্রতারক চক্রের প্রতারণায় অনেক পরিবারের লোকজনই এখন নিঃস্ব। স্বামীর কথা না শুনে প্রতারক চক্রের লোভে এক ভরি স্বর্ণ দুই ভরি করার লোভে পড়ে স্বর্ণালঙ্কার হারিয়ে ভেঙেছে একাধিক গৃহবধূর সংসার। প্রতারকরা বিভিন্ন এলাকায় সহজ সরল ও বিত্তশালী পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এরই মধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় কোটি টাকা। আত্মসম্মান ও এলাকায় লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই ঘটনা প্রকাশ না করে মনে মনে জ্বলছেন। বিভিন্ন কৌশলে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে এসব প্রতারক চক্র রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সহজ সরল লোকদের সাথে ভাব জমিয়ে প্রতারণা করে স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ছেন।

Shamol Bangla Ads

গত কয়েক মাসে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এ প্রতারক চক্রের হাতে প্রায় ১৫ জন পুরুষ ও নারী সহায়-সম্বল হারিয়ে এদের মধ্যে থেকে দু’জন আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন। প্রতারকদের ধরতে থানা পুলিশ একের পর এক অভিযান চালিয়েও আটক করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এসব প্রতারক চক্রের অধিকাংশই জিন-পরী ও জাদুর ভয় দেখিয়ে তাদের কার্যসিদ্ধ করে বার বার পার পেলেও ১৯ ডিসেম্বর প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে তুলে দিয়েছে থানা পুলিশের হাতে।

নুরে আলম ও সুমন মিয়া নামক দুই প্রতারকের একজনের বাড়ি জামালপুর ও অপরজনের বাড়ি শেরপুর জেলায়। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, এই দুই প্রতারক ও তার সঙ্গীরা গত এক সপ্তাহ আগে টাকা দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে আতলাপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী এবাদুল মিয়ার কাজ থেকে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে। টাকা হারিয়ে ব্যবসায়ী এবাদুল ওই চক্রের লোকজনকে খুঁজতে থাকেন বিভিন্ন এলাকায়। অবশেষে ১৯ ডিসেম্বর টাকা দ্বিগুণ করে দেয়ার প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।

Shamol Bangla Ads

প্রতারক চক্রের হাতেপড়া ব্যবসায়ী এবাদুল মিয়া জানান, বেশ কয়েক দিন আগে সুমন মিয়া ও নুরে আলমসহ ৪ জন সঙ্গী নিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে বিভিন্ন মালামালের দাম জিজ্ঞেস করে সখ্যতা গড়ে তুলে। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে প্রতারক চক্রের সদস্যরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেই তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে আধা ঘণ্টা পরই অলৌকিকভাবে টাকা দ্বিগুণ করে তার হাতে তুলে দেয়। এরপর থেকেই ওই ব্যবসায়ী লোভে পড়ে ১৫ ডিসেম্বর তার দোকানের মালামাল বিক্রি করা ও পাশের দোকানসহ বিভিন্ন দোকান থেকে ধার করে ১ লাখ টাকা তুলে দেন প্রতারক চক্রের হাতে। এই প্রতারক চক্র ফিল্মি স্টাইলে ১ লাখ টাকা নিয়ে একটি লাল কাপড়ে মোড়ানো সাদা কাগজের একটি বান্ডেল তার হাতে তুলে দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর ১ লাখ টাকা ২ লাখ টাকা হয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। প্রতারক চক্রের বেঁধে দেয়া সময় পার হওয়ার পর লাল কাপড়ে মোড়ানো কাপড় খুলে টাকার বদলে পান সাদা কাগজ। তখনই বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারক চক্রের দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন। এরপর থেকেই খুঁজতে থাকেন তাদের।

একই কায়দায় গত ১ মাস আগে দাউতপুরের পলখান এলাকার সৌদি প্রবাসী রশিদ মিয়ার স্ত্রীর কাছ থেকে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেন প্রতারক চক্রের এক মহিলা সদস্য। ওই বাড়িতে তালিমের কথা বলে ৪ জন মহিলা বাড়ির সবার উপস্থিতিতে বিভিন্ন কোরআন-হাদিসের কথা বলে আস্থাভাজন হন সৌদি প্রবাসী স্ত্রী সামসুন্নাহারের। বিভিন্ন কথায় ভুলিয়ে একপর্যায়ে কেরামতি দেখিয়ে ১০ ভরি স্বর্ণকে ২০ ভরি বানিয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে তা হাতিয়ে নেন।

স্বর্ণ হারানো সামসুন্নাহার জানান, তাবলিগ জামাতের মহিলাকর্মী পরিচয়ে ৪ জন মহিলা গত নভেম্বর মাসের ৯ তারিখে তার বাড়িতে আসেন। আশপাশের মহিলাদের ডেকে এনে বিভিন্ন হাদিসের আলোকে মহিলাদের তালিম দেন। তালিম শেষ করতে করতে রাত হয়ে যাওয়ায় তারা এতো রাতে ঢাকায় ফিরতে পারবে না বলে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে অবস্থান করেন। বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে জিনের সাহায্যে ১ ভরি স্বর্ণকে ২ ভরি বানিয়ে দেয়ার লোভ দেখান সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে। লোভে পড়ে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী সামসুন্নাহার তার সব স্বর্ণালঙ্কার তুলে দেন প্রতারক চক্রের হাতে।

নির্দিষ্ট সময়ে তার স্বর্ণালঙ্কার ১০ ভরি থেকে ২০ ভরিতে উন্নীত হবে বলে জানান। লোভে পড়ে প্রতারক চক্রের ৪ মহিলাকে ঘটনার দিন রাতে মুরগি জবাই করে আপ্যায়ন করেন। ফজর নামাজের পর কাউকে কিছু না বলে রাতের অন্ধকারে ১০ ভরির স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে সটকে পড়েন তারা। ভোরে ঘুম থেকে উঠে আলমারিতে রাখা লাল কাপড় দিয়ে মোড়ানো পুটলা খুললেই ধরা পড়ে আসল ঘটনা। প্রতারক চক্রের মহিলাদের দেয়া পুটলায় কোন স্বর্ণালঙ্কার না পেয়ে পান কয়েকটি ইট-পাথরের টুকরো। অন্য রুমে থাকা মহিলাদের খুঁজতে গিয়ে দেখতে পান রোম খালি। পরে এ ঘটনা স্বামী জানতে পারলে স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে স্বর্ণ আনার জন্য বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। একই মাসের ১৩ তারিখে কায়েতপাড়া ও নাওড়া এলাকায় জমির দালাল সবুজের বাড়িতে একই কায়দায় তাবলিগ জামাতের পরিচয় দিয়ে ৫ জন মহিলা অবস্থান নেয়। তালিম শেষে রাত হয়ে যাওয়ায় ওই বাড়িতেই থেকে যান প্রতারক চক্রটি। রাতের খাবার দাবার শেষে খেজুরের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সবুজের স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ দেড় লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় তারা।  ভোরে আশপাশের লোকজনের ডাকাডাকিতে ঘুম থেকে উঠে সবুজ এবং তার স্ত্রী দেখতে পান ঘরের স্টিলের আলমারিতে রক্ষিত স্বর্ণালঙ্কার ও দেড় লাখ টাকা নেই। গত ১ মাস আগে বরাব এলাকার ঢাকার ফুলবাড়িয়া মার্কেটের জুতা ব্যবসায়ী মনির হোসেনের কাছ থেকে টাকা দ্বিগুণ করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান ৩ প্রতারক। জুতা ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, পাইকারি জুতা বেচাকেনার সময় গাইবান্ধা এলাকার ওই প্রতারক চক্রের সাথে পরিচয় হয় তার। বিভিন্ন সময় জুতার ব্যবসায়ীকে অল্প টাকা দ্বিগুণ করে দেয়ার প্রতি বিশ্বাস জন্মায় তারা। বেশি টাকা দোকানে না থাকায় নিজ বসতবাড়িতে এনে ৪ লাখ টাকা তুলে দেন প্রতারকদের হাতে। গভীর রাতে প্রতারক চক্রের দেয়া একটি লাল কাপড়ের থলির ভেতর টাকাগুলো রেখে ডবল হওয়ার প্রলোভন দেখায়। রাতের খাবার শেষে জুতা ব্যবসায়ী মনিরের কাছে লাল কাপড়ের থলি দিয়ে সটকে পড়েন প্রতারক চক্র।
প্রতারক চক্রের কথা মতো গভীর রাতে লাল কাপড়ের থলির ভেতর থেকে ৪ লাখ টাকার দ্বিগুণ ৮ লাখ টাকা পেতে গিয়ে পান কতগুলো কাগজের টুকরো। এ ঘটনার পর ক্ষোভে ও মনের দুঃখে ১০/১৫টি ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করের ওই ব্যবসায়ী। পরে আত্মীয় -স্বজনের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পান তিনি।

এভাবে গত কয়েক মাসে প্রতারক চক্র রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সটকে পড়ার অভিযোগ আছ। পুলিশের হাতে আটক প্রতারক চক্রের সদস্য জামালপুরের সুমন মিয়া জানান, গাইবান্ধা জেলার সাতুল্লাপুর, দাপের হাট, গোবিন্ধগঞ্জ ও চত্রা এলাকার বিভিন্ন জিনের বাদশার সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরেই তিনি এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন এলাকায় নিয়োগকৃত লোকজনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও মহিলাদের টার্গেট করে তাদের মিশন চালান। ব্যবসায়ী, গৃহবধূ ও তরুণীদের সাথে বিভিন্ন কায়দায় সখ্যতা গড়ে তুলে জিন, পরী ও জাদুর ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়ে তারা সটকে পড়েন।

প্রায় ৩টি ভাগে বিভক্ত শতাধিক নারী-পুরুষ এই চক্রের সদস্য। বিভিন্ন এলাকার মহিলাদের তাবলিগ জামাতের নাম করে ওইসব মহিলাদের বাড়িতে গিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা দ্বিগুণ করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। এই চক্রের আরেকটি গ্রুপ আছে সুন্দরী তরুণী ও মহিলা। তালিমের নাম করে তারা ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের বাড়িতে রাতের বেলা অবস্থান করে। রাতের কোন এক সময় ওই পরিপারের লোকজনের আস্থা অর্জন করে কোরআন-হাদিসের আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে, ঘুমের ওষুধ মেশানো খেজুর, মিষ্টি ও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী খাইয়ে অচেতন করে ¯¦র্ণালঙ্কার, নগদ টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যান।
তিনি জানান, দুই ভাগে বিভক্ত চক্রটির এক গ্র“প কাজ সিদ্ধ করতে টার্গেটকৃত বাড়িতে প্রবেশ করে। অপর গ্রুপটি থাকে সুযোগ সুবিধা করে দিতে এবং রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে সহায়তা করতে। বিভিন্ন কৌশলেই রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারক চক্র লোকজনকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার।

Need Ads
error: কপি হবে না!