প্রভাষক আরিফ মাহমুদ ,কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : ৬ ডিসেম্বর কলারোয়া পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আগুন ঝরা এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে পাকিস্থান বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের পরাজিত করে কলারোয়া এলাকাকে পাক হানাদার মুক্ত করেছিল। কলারোয়ার মুক্ত আকাশে ওড়েছিল স্বাধীন দেশের পতাকা। বিভিন্ন সূত্র মতে, মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরের অধীনস্থ ছিল কলারোয়া। মুক্তিযুদ্ধে কলারোয়ার ৩৪৩ জন বীর সন্তান অংশ নেন। তাদের মধ্যে শহীদ হন ২৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। কলারোয়া অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধা পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে প্রবাসী সংগ্রাম পরিষদ। সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন সদ্যপ্রয়াত ভাষা সৈনিক ও শিক্ষক নেতা শেখ আমানুল্লাহ, সদ্যপ্রয়াত রাজনীতিবিদ মমতাজ আহমেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম নজরুল ইসলাম, প্রয়াত শ্যামাপদ শেঠ, ইনতাজ আহমেদ, মোছলোদ্দীন গাইন, ডা. আহম্মাদ আলী ও তারক ঘোষ প্রমুখ। পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ পরিচালনা করেন কলারোয়ার দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দীন ও আব্দুল গফফার। সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৬শতাধিক পাক সেনা নিহত হয়। কলারোয়ায় পাক সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি বড় ধরণের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধেই ২৯জন পাকসেনা নিহত হয়। শহীদ হয় কলারোয়ার ১৭জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ৬ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধারা কলারোয়াকে মুক্ত করে কলারোয়া থানা চত্বরে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল দিনটি এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে কলারোয়ার বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।




