মো.সুজর রানা, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামে আবারও আলু চাষে নেমেছেন কৃষকরা। মনে শঙ্কা থাকলেও গত বছরের লোকসান পোষাতে আবারও আলু চাষে ঝুঁকি নিতে চান তারা। আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতেই আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নন্দীগ্রাম উপজেলার আলু চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগাম জাতের কার্ডিনাল আলু রোপণের ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মাথায় বিক্রয় উপযোগী হয়। তুলনামূলক কম সময় লাগাসহ এই আলু চাষ করে লাভবান হওয়ায় বরাবরের মতো এবারও চাষে ঝুঁকি নিয়েছেন কৃষকেরা। নন্দীগ্রাম উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম আলু চাষ শুরু হয়েছে। গত বছর আলুর ফলন ভালো হলেও দাম কম হওয়ার কারণে কৃষকরা তাদের ন্যায্য মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। তারপরও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায় এ বছরও কৃষকেরা আগাম আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। উপজেলার দোহার, বীরপলী, সিংজানী, কৈগাড়ী, কড়ইহাট, ধুন্দার, ভাটগ্রাম, মির্জাপুর, দামগাড়া এলাকায় দেখা গেছে কৃষকেরা আলু রোপণ করতে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ জমি তৈরিতে ব্যস্ত। দোহার গ্রামের আলু চাষী নজরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, ১বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছেন আরও ৫/৬বিঘা জমিতে লাগাবেন। তিনি জানান, গত বছর আগাম আলু চাষ করে মুনাফা হয়েছিল। তাই এ বছরও আগাম আলু লাগাইতেছি। মির্জাপুর দামগাড়া গ্রামের আলু চাষী হেলাল উদ্দিন জানান, ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে এসব আলু চারা গজে উঠবে। বাজারে তখন নতুন আলুর কেজি গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত থাকবে। এতে লাভও ভালো হবে। হিমাগারের একজন মালিক জানান, গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার ৫০ একর জমিতে আগাম আলু চাষ করেছি। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আলু একটি ঠান্ডা জলবায়ুর অর্থকরি ফসল। ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সে: তাপমাত্রায় আলু চাষের জন্য উত্তম। তবে আবার ২৫ ডিগ্রি সে: এর বেশি ও ১০ ডিগ্রি সে: এর কম হলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। আলু চাষের জন্য বেলে দোঁআশ বা দোঁআশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। কৃষি বিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, এবার আমন মৌসুমে উপজেলায় ২০হাজার ৮শ’ ৮৫ হেক্টর জমি চাষাবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় লক্ষমাত্রার চেয়ে ৫শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে বেশী চাষাবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪হাজার ৪শ’ ২৬মেট্রিক টন।, উপজেলার চাষীরা বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি জাতের আমন ধানের চাষ করেছিলেন। আর ওই সকল মাটি হতে ধান সংগ্রহ করে অনেক চাষী আলু লাগিয়েছেন। আবার অনেকে লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পতিত জমিতে আগাম আলুর চাষ করে অনেক চাষী লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ২২-২৫ দিনের মধ্যে আগাম নতুন আলু বাজারজাত করণেরও স্বপ্ন দেখছেন এ উপজেলার অধিকাংশ চাষী। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ মশিদুল হক জানান, চাষীরা আগাম আলু চাষ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিছু দিনের মধ্যে বাজারজাত করতে পারবেন। নতুন আলুর ভাল দাম পেলে কৃষরাও লাভবান হতে পারবেন।




