ads

বৃহস্পতিবার , ৩১ অক্টোবর ২০১৩ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

দেশীয় জাতের ধান বিলুপ্তির পথে

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
অক্টোবর ৩১, ২০১৩ ২:২১ অপরাহ্ণ

Dhanমো. মহসিন মাতুব্বর, আমতলী (বরগুনা) : ধন-ধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা….. এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভুমি- গানের ওই বিখ্যাত পংক্তি কালের আবর্তে হারিয়ে যাওয়ার পথে। ফুলে-ফলে ভরা এই দেশ আর নেই। একটা সময় ছিল যখন গোলা ভরা ধান আর গলা ভরা গান, গোয়াল ভরা গরু। সেই সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা এই সবুজ বাংলা থেকে ক্রমেই ফল এবং ফুলের সাথে প্রকৃতিবান্ধব প্রায় ২৫/৩০ প্রজাতির দেশীয় ধান বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। নানা কারণে বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে মানবদেহের জন্য উপকারী বিভিন্ন জাতের ধান। অথচ একটা সময় ছিল চিরন্তন বাংলার  দিগন্ত মাঠে মাঠে নানা সাদ ও গন্ধের ওইসব দেশীয় জাতের ধান বেশি চাষ হতো। স্বকীয় গুণাবলী বৈশিষ্ট্য এবং নিজস্ব দেশীয় জাতের ধান উৎপাদনে গ্রাম বাংলার কৃষকদের আগ্রহ ছিল অদম্য । উৎপাদন খরচ কম, মানবদেহের জন্য উপকারী এবং সুুস্বাদু পিঠা পায়েশ খই-মুড়ি ও চিড়া মুড়ি তৈরীতে এসবের জুড়ি মেলা ছিল খুবই সহজ। গবেষনালব্ধ উচ্চ ফলন জাতের ধানের চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সেদিকে ঝুকে পড়ায় ক্রমেই অপরূপ বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিবান্ধব ওইসব প্রজাতির দেশীয় ধান। প্রায় ২৫/৩০ প্রজাতির দেশীয় ধান রয়েছে আমাদের দেশে । এর মধ্যে গৌরীকাজল, লক্ষীনতা, নোড়াই, সাটো, পরাঙ্গি, দীঘা, হাসবুয়ালে, ভোরানটা, মানিকদীঘা, খৈয়ামটর, দলকচু, পঙ্খিরাজ, বাশিরাজ, ঝিঙেঝাল, দেবমনি, দুধমনি, কালাবায়রা,  ধলাবায়রা, গন্দকোস্তের, আশ্বিন দীঘা, আশ্বিন মালভোগ, দুধকলম উল্লেখযোগ্য।
মানুষের দেহ মনের জন্য এসব জাতের ধানের চালের ভাত যথেস্ট উপকারী । সু স্বাদু পিঠা পায়েস চিড়া খই ও মুড়ি তৈরীতে দেশীয় এসব জাতের ধানের কোন তুলনা হয় না । সার কীট নাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না বিধায় অবাদি ভুমির উর্বর শক্তি হ্রাস পায় না।
প্রাচীনতম দেশীয় জাতের ওইসব ধান চাষ অপেক্ষাকৃত কম লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল উফশী জাতের ধান চাষ বেশী ঝুকে পড়ছে। যে কারনে দেশ থেকে ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশি ধান ।
দেশের সব অঞ্চলেই এক সময় দেশীয় ওইসব ধানের চাষ হত। নবান্ন উৎসবের সঙ্গে গ্রামের ঘরে ঘরে সু-স্বাদু পিঠা, পায়েস, খই, মুড়ি ও চিড়া-মুড়কি তৈরীতে জুড়ি নেই। গ্রামের অনেক এলাকায় প্রবীন কৃষকরা এখনও ওইসব প্রাচীন জাতের ধান চাষ ধরে রেখেছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারীভাবে চাষী পর্যায়ে বীজ উৎপাধন সংরক্ষন বিতরন ও জাত নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে উচ্চ ফলনশীল জাতের পাশাপাশি প্রাকৃতিক প্রতিকুলতা মোকাবিলায় নিজস্ব ক্ষমতাসম্পন্ন বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ বৃদ্ধি পাবে।

Need Ads
error: কপি হবে না!