স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় অঙ্গহানীর প্রতিবাদে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও কয়েকটি শিক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। ৬ মার্চ রবিবার দুপুরে শেরপুর নিউ মার্কেট পায়রাচত্বরে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে কর্মরত ডা. শরীফুল ইসলাম শরীফ ও ময়মনসিংহের কুন্ডু প্যাথলজির মালিক অধ্যাপক ডা. কে.কে. কুন্ডুকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গ্রেফতারের জন্য আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী জয়শ্রীদাস। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান। ওইসময় একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, প্রেস ক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসরিন রহমান, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা লুৎফুন্নাহার, প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা, জনউদ্যোগ আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক শিব শংকর কারুয়া শিবু, প্রভাষক তপন সারোয়ার, নারী নেত্রী আঞ্জুমান লিপি, সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান রাজা প্রমুখ। পরে তারা জেলা প্রশাসক ডাঃ এ এম পারভেজ রহিম ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল ওয়ারীশের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাসে শ্রীবরদী শহরের শান ক্লিনিকে চিকিৎসক শরীফকে স্তনের ফোড়া দেখাতে যান কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ভূতনীকান্দা গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধু। ওইসময় চিকিৎসক তার স্তনে টিউমার হয়েছে বলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহের সেহরা এলাকার কুন্ডু প্যাথলজিতে পাঠালে সেখান থেকে ক্যান্সারের ভুল রিপোর্ট আসে। পরে ওই গৃহবধুকে শাহবাগের মডিউল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ১৫ নভেম্বর তার বাম স্তন কেটে ফেলেন ডাঃ শরীফ। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বায়োপসি রিপোর্টে স্তনে ক্যান্সার নেই বলে জানানো হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার দীর্ঘ ২ মাসেও সেই ২ চিকিৎসক গ্রেফতার হয়নি।




