অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সম্পন্ন হলো দেশের ২৩৩টি পৌরসভা নির্বাচন। এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকের অধীনে নির্বাচনটি হওয়ায় সবমহলের অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি ছিল নির্বাচনটিকে ঘিরে। আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণও ছিল এবারের নির্বাচনের আরেকটি ইতিবাচক দিক। নির্বাচন কমিশন এবারের নির্বাচনে তাদের মতার অনেকটাই প্রয়োগ করার সমতা দেখাতে পেরেছে। কোনো কোনো েেত্র মন্ত্রী-এমপি এবং সরকার সমর্থকদের অনেক দাবি যৌক্তিকতার সঙ্গে উপো করেছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখ অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী দেশের ২৩৪ টি পৌরসভার মধ্যে ৭টি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় বাকি ২২৭ টি পৌরসভাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত থাকায় অবশিষ্ট ২০৭ পৌরসভা আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৭ পৌরসভা মিলে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৬৮, বিএনপি ১৯, জাতীয় পার্টি ১ ও স্বতন্ত্র ২৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন। অবশ্য স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত ২৬ জনের মধ্যে অধিকাংশই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। অন্যরা বিএনপি বিদ্রোহী ও জামায়াত সমর্থক। একই অবস্থায় শেরপুরের ৪টি পৌরসভাতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আর ওই ৪টি পৌরসভার মধ্যে সদর শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকেই বিজয়ী হতে হয়েছে নানা ষড়যন্ত্র ও অন্তর্ঘাত উতরিয়ে। সর্বোপরি শেরপুরসহ দেশের যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের উষ্ণ অভিনন্দন।
এ কথা বলার অবকাশ রাখে না যে, দ ও শক্তিশালী সরকার কাঠামো গড়ে তুলতে হলে বলিষ্ঠ স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই। একটি রাজনৈতিক দল তখনই জনগণের কাছে খুব কাছাকাছি পৌঁছতে পারে এবং তাদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে, যখন তাদের তৃণমূল নেতৃত্ব সংগঠিত ও মজবুত পর্যায়ে থাকে। এ ল্েয স্থানীয় নেতৃত্ব ও নির্বাচনের গুরুত্ব প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান। পৌর নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনের আগে ও পরে অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনী মাঠ ত্যাগ করেনি, লড়াই চালিয়ে গেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রোপটে এটি অবশ্যই শুভ লণ। রাজনৈতিক বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করাই বাঞ্ছনীয়। বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে এই বোধ জাগ্রত হওয়া রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ফলই বয়ে আনবে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সার্বিক বিচারে এবারের নির্বাচন একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এর পুরো কৃতিত্ব ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের যথাযথ পদপে গ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর তা মেনে নেয়ার সহনশীলতা তো ছিলই। তবে জনগণ সচেতন হলে এবং নিজ অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে আগ্রহী হলে সব ধরনের অন্ধকারই যে দূর করা যায়Ñ তা এবারের নির্বাচনই বলে দেয়।
দলীয় সরকারের অধীনে প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন সফল হতে অনুষ্ঠেয় পৌর নির্বাচনটি সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীা ছিল। এতে সরকার কতটা সফল হয়েছে কিংবা নির্বাচন কমিশন তাদের ইমেজ কতটা রা করতে পেরেছে তা বিচারের মতা জনগণের। তবে বিজয়ের মাসে আওয়ামী লীগ তথা নৌকা প্রতীকের জয়-জয়কার অবস্থায় বিজয়ের ভিন্ন স্বাদ গ্রহণের বিষয়টি জাতির ভাগ্যে এক বিশাল ও অনন্য প্রাপ্তি। আর এটি সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া তৃতীয় দফায় নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার দক্ষ ও সঠিক নেতৃত্বের বদৌলতে। সুতরাং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও দেশ পরিচালনায় প্রতিটি নির্বাচন হোক আগামী পথকে প্রশস্ত করে তুলুকÑ এ প্রত্যাশা আমাদের।




