ads

বৃহস্পতিবার , ৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা ॥ নারী ও শিশুদের ভিড় বেশি

স্টাফ রিপোর্টার
এপ্রিল ৪, ২০২৪ ৩:২০ অপরাহ্ণ

রমজান মাস যত শেষের দিকে এগিয়ে চলছে, ততই জমে উঠেছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের কেনাকাটা। কয়েক দিন ধরে হালকা কেনাকাটা চললেও শেষ মুহূর্তে কেনাকাটায় ধুম পড়েছে। মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ব্যবসায়ীসহ ক্রেতাদের ব্যস্ততা। নারী, শিশুসহ সব বয়সী মানুষ কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদকে সামনে রেখে বিপণি বিতান, মার্কেটগুলো এখন নতুন নতুন দেশি-বিদেশি হরেক রকম জামা-কাপড়ে ঠাসা। ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সবার জন্য জামা-কাপড়, জুতো, প্রসাধনীসামগ্রী কিনতে ব্যস্ত পরিবারের কর্তারা। সকাল থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত চলছে ঈদের বেচা-কেনা। ঈদের জামায় এবার মেয়েদের আলিয়া কাট, সারারা, নাইরা চলছে বেশি। আর ছেলেদের আকর্ষণ পাঞ্জাবির দিকে।

Shamol Bangla Ads

সরেজমিনে শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, মুন্সিবাজার ও শহীদ বুলবুল সড়ক এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাকের দোকান এবং নয়আনী বাজার এলাকায় অবস্থিত কাপড় ও জুতার দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক ক্রেতা ঈদের কেনাকাটা করছেন। শিশু, নারী, তরুণ ও তরুণীরা ঈদ উপলক্ষে আসা পোশাক দেখছেন। তবে বিপণিবিতানগুলোয় নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। সামর্থ্যের মধ্যে পছন্দের জামা, কাপড়, শাড়ি, জুতা ও প্রসাধনসামগ্রী কিনে খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন সবাই। এবার ঈদবাজারে নারী ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি কিনছেন থ্রি-পিস। থ্রি-পিসগুলোর নামও দেওয়া হয়েছে বাহারি রকমের। এগুলোর মধ্যে আলিয়াকাট, নায়ারা, আফগান, রিহানা নামের থ্রি-পিসে মাতোয়ারা হয়েছেন তরুণীরা। এ ছাড়া অরগেয়া, জর্জেট, গাদোয়াল, সাউথ ইন্ডিয়ান, সফট কাতান, ঢাকাইয়া জামদানি, ভারতীয় জামদানি, টিস্যু সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক ও টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িও বিক্রি হচ্ছে বেশ। শিশু ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে জিনসের হাফ প্যান্ট, জামা ও যতোয়ার প্রতি। পুরুষ ক্রেতারা কিনছেন জিনসের প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট ও পায়জামা-পাঞ্জাবি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ১০ রমজানের পর থেকেই তাদের ব্যবসা জমে উঠছে। বর্তমানে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বিভিন্ন মার্কেটে এখন চলছে জমজমাট বেচাকেনা। শিশু, পুরুষ ও মহিলাদের পছন্দের কাপড়-চোপড়ের দোকানগুলোতে এখন বেশ ভিড়। সামনের মাসের শুরুতে জুতা ও প্রসাধনীর দোকানগুলোতে ভিড় আরও বাড়বে। ঈদকে সামনে রেখে জেলার অভিজাত বিপণীবিতান ও শপিংমলগুলোতে আধুনিক সব পোশাক উঠিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শহরের ব্র্যান্ডের শোরুম রিচম্যান লুবনান, মিমোজা ফ্যাশন হাউস, মাহবুব ফ্যাশনস, আরশ ওয়্যার ও মৌ ফ্যাশনের আধুনিক ডিজাইনের পোশাকগুলো ঈদফ্যাশনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যান্য শোরুম ও দোকানেও রয়েছে নানা আয়োজন।

Shamol Bangla Ads

শহরের মিমোজা ফ্যাশন হাউসের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল হক বলেন, ঈদ উপলক্ষে দোকানে ৬০-৬৫ লাখ টাকার নতুন পোশাক ওঠানো হয়েছে। এবার ঈদের বেচাকেনাও খুব ভালো। বিশেষ করে নারীদের পোশাক হিসেবে খ্রি দিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। মৌ ফ্যাশনের মালিক মো. আতাউর রহমান বলেন, এবারের ঈদের বেচাকেনা মুটামুটি ভালোই হচ্ছে। তবে পোশাকের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাস্টমাররা দামাদামি করছেন বেশি। জননী বস্ত্রালয়ের মালিক চন্দন কুমার বলেন, মার্কেটগুলোতে টাঙ্গাইলের সুতি, জামদানি, জর্জেট এবং সিল্ক শাড়ির চাহিদা এবার অনেক বেশি। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ীই দোকানে মালামাল উঠানো হয়েছে। এবার ঈদের বেচাকেনা খুব ভালো। বিশেষ করে নারীদের পোশাক হিসেবে থ্রি-পিসের সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে।

তবে গতবারের চেয়ে এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। শামীমা নাসরিন নামে এক ক্রেতা বলেন, পরিবারের সদস্যের জন্য ১৬ হাজার টাকার কাপড়-চোপড় কিনলাম। তবে গতবারের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশি। পৌর নিউমার্কেটের মিমোজা ফ্যাশন হাউসে কেনাকাটা করতে আসা শেরপুর ইন্সটিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজীর শিক্ষিকা শাহিদা আক্তার বলেন, এবারের ঈদবাজারে প্রায় সব দোকানেই পছন্দসই পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। দামও অনেকটা সহনীয়। আর একদরের দোকানে দামাদামির ঝামেলা না থাকায় এখান থেকেই কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। গৃহবধূ আদিলা আক্তার বলেন, তার পরিবারের সকল নারী সদস্যের জন্যই তিনি থ্রি-পিস কিনেছেন। থ্রি-পিস পড়ে সহজেই চলাফেরা করা যায়। তাই থ্রি-পিসকেই তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এদিকে ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড় জমে উঠেছে ফুটপাতগুলোতেও। বলতে গেলে ফুটপাতেই এখন মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্রদের ঈদের প্রধান বাজার। শ্রমিকশ্রেণির অনেকেই চাঁদ রাতে অথবা ১-২ দিন আগে কেনাকাটা করে। স্বল্প বেতনভোগী ও খেটে খাওয়া মানুষকেও আপাতত কেনাকাটায় খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
বস্ত্র মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বেচাকেনা করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আর জিনিসপত্রের দাম মানুষের হাতের লাগালের মধ্যেই আছে। তাই মানুষ ঈদবাজারে আগে থেকেই ঝুঁকে পড়েছে।

Need Ads
error: কপি হবে না!