এম,লুত্ফর রহমান, নরসিংদী : নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন কোন্দল এবার আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত নরসিংদী জেলা পরিষদ ফুটো হয়ে বেরিয়ে পড়েছে। জেলা পরিষদের ইফতার পার্টির দাওয়াতপত্রে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। পক্ষান্তরে সরকারের বর্তমান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লেঃ কর্নেল অবঃ মোঃ নজরুল ইসলাম হিরুকে করা হয়েছে ৭ জনের ১ জন বিশেষ অতিথি। অন্যান্য বিশেষ অতিথিরা হচ্ছেন, এমপি নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, এমপি কামরুল আশরাফ খান পোটন, মহিলা এমপি রহিমা আক্তার, ডিসি আবু হেনা মোর্শেদ জামান, এসপি শেখ রফিকুল ইসলাম এবং সভাপতি হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পরিষদ প্রশাসক এড. আসাদুজ্জামান। জেলা পরিষদের এই দাওয়াতপত্র নিয়ে নরসিংদীর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্ব মহলে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। জেলা পরিষদ কর্তৃপহ্মের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ ভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে দেশের সাংবিধানিক পদ প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ক্ষুন্ন করার। নরসিংদীর বিরোধী দলীয় আইনজীবীগন বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার একজন ব্যক্তি হচ্ছেন ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের ৮নং গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি। পক্ষান্তরে, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে একজন সাবেক মন্ত্রীর কোন অবস্থান নেই বা গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ নেই। এক্ষেত্রে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ যেমন দলীয় বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ ভঙ্গ করার ক্ষমতা রাখেন না, তেমনি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল হিরুও দলীয় আনুগাত্যের কারনে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ ভঙ্গ করার ঘটনায় নির্লিপ্ত থাকতে পারেন না। ব্যক্তি বা রাজনীতিক কর্নেল হিরু এবং প্রতিমন্ত্রী হিরু এক নন। প্রতিমন্ত্রী পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। এই পদের জন্য কর্নেল হিরুকে বাছাই করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাকে নিয়োগ ও শপথ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। কোন অবস্থাতেই দলীয় অর্গানোগ্রাম বা দলীয় পদের সাথে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদাকে একত্রে গুলিয়ে ফেলার কোন সুযোগ নেই। অভিজ্ঞ রাজনীতিগন বলছেন, জেলা পরিষদ সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. আসাদুজ্জামানকে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করার অর্থ এই নয় যে, জেলা পরিষদ জেলা আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বা জেলা পরিষদের আমলা-কামলারা জেলা আওয়ামী লীগের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী। অথচ জেলা পরিষদের ইফতার পার্টির দাওয়াতপত্রে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী রাজু, বর্তমান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল হিরু, অন্যান্য এমপি, ডিসি, পুলিশ সুপার এবং জেলা পরিষদের আমলা-কামলাদেরকে জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। একত্রে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে সরকারী অর্গানোগ্রাম এবং আওয়ামী লীগের দলীয় অর্গানোগ্রাম। আর এই বিতর্কিত জগাখিচুরি দাওয়াতপত্রটিতে স্বাক্ষর করেছেন সরকারের উপ-সচিব পদমর্যাদার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার মান্নু। সরকারের ক্যাডার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা হয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় অর্গানোগ্রাম ভিত্তিক এই দাওয়াতপত্রে তিনি স্বাহ্মর করতে পারেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের এই দাওয়াতপত্রটি আসলে জেলা আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. আসাদুজ্জামান হচ্ছেন আওয়ামী লীগের রাজু গ্রুপ সমর্থিত রাজনীতিক এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল হিরু হচ্ছেন মেয়র লোকমান গ্রুপ সমর্থিত রাজনীতিক। মেয়র লোকমান নিহত হবার পর জেলা আওয়ামী লীগে সৃষ্ট আভ্যন্তরীন কোন্দল প্রকট হয়ে দেখা দিলে এড. আসাদুজ্জামান সরাসরিভাবেই মন্ত্রী রাজুর পক্ষ নেন । পক্ষান্তরে কর্নেল হিরু পক্ষ নেন মেয়র লোকমান গ্রুপের। দুঃসময়ে এড. আসাদুজ্জামান সাবেক মন্ত্রী রাজুর পক্ষে কাজ করার পুরষ্কার স্বরুপ তৎকালীন মন্ত্রী রাজু জেলা আওয়ামী লীগ প্রধান এড. আসাদুজ্জামানকে জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে মনোনয়ন ও নিয়োগদান করান। মন্ত্রী রাজুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়েই সাবেক মন্ত্রী বর্তমান মন্ত্রী, এমপি ও আমলা-কামলাদেরকে দলীয় বিবেচনায় একত্রে গুলিয়ে ফেলেছেন। যা পরিপূর্নভাবে রাষ্ট্রপতির ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ এবং সাংবিধানিক পদমর্যাদার সুস্পষ্ট অবমাননা বলে মনে করছেন নরসিংদীর রাজনৈতিক আইনজীবি ও বুদ্ধিজীবি মহল।




